সমাজে সবাই খারাপ—এটা বলা যাবে না। কিছু কিছু খারাপ মানুষের কারণে দশের বদনাম হয়। পথে চলতে গেলে অনেক খারাপ মানুষ সামনে পড়ে। এমন কিছু সমস্যা তৈরি হয় যা খুবই বিব্রতকর। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতেই কারাতে শিখেছিলেন এসএ গেমস কারাতে স্বর্ণ পদক জয়ী হোমায়ারা আক্তার অন্তরা। শখের বশে কারাতে শিখে আজ তিনি সোনার কন্যা হয়েছেন। দেশের আলোচিত মানুষ হয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনে যাকে নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। দেশেকে সোনার পদক উপহার দেওয়ার পরও এই নারী ক্রীড়াবিদের মধ্যে বাড়তি জৌলুস নেই। আগের মতোই সাদাসিধে। রাজধানীর উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন অন্তরা।
নেপালের কাঠমান্ডুতে স্বর্ণ জয় করে বৃস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঢাকায় ফিরেছেন। বিমানবন্দরে স্বর্ণ জয়ীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। রাজধানীর নয়াপল্টনের বাসায় ফিরতে হয়েছে সেই ১২টায়। পথে গাড়ি নষ্ট। অন্তরা বিরক্ত। আরেকটি গাড়িতে বাসায় ফেরেন অন্তরা। মা জাহানারা বেগম আগেই মেয়ের প্রিয় বিরিয়ানি রান্না করে রেখেছিলেন। বাসায় গিয়ে অন্তরা তার সোনার পদকটি মায়ের গলায় পরিয়ে দিয়েছেন। তার কাছে মনে হয়েছে এটি যে, মায়েরই প্রাপ্য। কারণ মা-ই তাকে গড়ে তুলেছেন। তাহলে বাবা খন্দকার আশরাফ আলম মামুনের ভূমিকা কী? সঙ্গে সঙ্গে অন্তরা কথাটা কেড়ে নিয়ে বললেন, ‘বাবা-মা সবাই ভালোবেসে আমাদের চার বোনকে গড়ে তুলেছেন। তবে মা আমাদেরকে কারাতে খেলায় নিয়ে গিয়েছেন।’
অন্তরার কথা আতকে উঠার মতোই। পুরোটা ভেঙে বললেন অন্তরা, ‘রাস্তা-ঘাটে সমস্যা হয়। চলতে গেলে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যেটা নিয়ে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার আম্মুই আমাদেরকে কারাতে খেলায় নিয়ে গেছেন। তার ইচ্ছোতেই আমরা কারাতে খেলতে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমাদের নিজেদের চলাফেরা করতে হয় তাই কারাতে খেলাটা জানা থাকলে ভালো হয়।’ রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়েছিল কিনা ? এমন প্রশ্নে অন্তরা বলেন, ‘এখনো সমস্যা হয়নি। তবে আমরা যে এলাকায় থাকি সেখানে সবাই জেনে গিয়েছে আমরা কারাতে করছি এবং ভালোভাবে কারাতে করতে পারি। যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব।’ আমরা কথাটা বলা হচ্ছে কেন? অন্তরা বললেন, ‘আমরা মানে হচ্ছে আমরা চার বোন তিন বোনই কারাতে করছি। মায়ের ইচ্ছাতেই কারাতে শিখেছি। আমি সবার বড়ো। আমার ছোটো জান্নাতুল ফেরদৌস সুমী, তার বয়স ১৮। এবার প্রথম বর্ষের ছাত্রী। আরকটি বোন আছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, সানজিদা সিদ্দিকা শোভা। এই তিনজনই আমরা কারাতে করছি।’ সবাই কারাতে করলে সুবিধাটা কি? লম্বা জবাব দিতে গিয়ে অন্তরা বলেন, ‘এতে সুবিধা অনেক বেশি। আমি যদি একা কারাতে খেলি তাহলে একা একা যাওয়া আসা করতে হতো। বোনরা আমার সঙ্গে খেলতে আসায় এক সঙ্গে যাওয়া আসা করছি। এখানে একটা সাহস থাকে। খারাপ কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায় না। অন্য বোনরা যদি কারাতে করে তারাও আত্মরক্ষার শিক্ষাটা গ্রহণ করতে পারছে। সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হচ্ছে বাসায় আমরা এক সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছি। টিম কাতা ইভেন্টে তিন জন খেলোয়াড় লাগে। এতে বুঝাপড়াটা ভালো হয়। ছন্দ হারিয়ে ফেলে। সাফল্য পেতে যদি এক সঙ্গে বোনেরা বাসায় আলোচনা করি এবং অনুশীলন করি তাহলে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা যায়।’
