কৃষকের বাজারে বিষমুক্ত সবজি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

সার ও কীটনাশকমুক্ত শাকসবজি ও দানাদার শস্যের যোগান দিতে রাজধানীতে যাত্রা শুরু করেছে ‘কৃষকের বাজার’। গতকাল শুক্রবার মানিক মিয়া এভিনিউর সেচ ভবন প্রাঙ্গণে এটি উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনি দুদিন সকাল ৭টা থেকে বসবে এ বাজার। 

বাজার উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখানকার এই কৃষকের বাজারে যে কৃষকরা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের আমরা গত এক বছর ধরে প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণরূপে কীটনাশকমুক্ত সবজি এখানে নিয়ে আসছেন তারা। স্বল্প পরিসরে হলেও এটি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এটি বৃহত্ পরিসরে করার উদ্যোগ আমরা নেব। কৃষিখাতে বাংলাদেশের আরো সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দানা জাতীয় খাদ্যের ক্ষেত্রে আমরা এখন উদ্বৃত্ত অবস্থায় আছি। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের শাকসবজি, খাদ্য ও কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। এটি অব্যাহতভাবে বাড়ছে।

গত অর্থবছরে কৃষিক্ষেত্রে রপ্তানির অগ্রগতি হয়েছে ৩৪ ভাগ। অন্যান্য সব সেক্টরের চেয়ে কৃষি সেক্টরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ঢাকার আশপাশের মোট আটটি উপজেলা থেকে অর্গানিক বিভিন্ন সবজি নিয়ে এ বাজারে অংশগ্রহণ করেছেন কৃষকরা। প্রথমবার তাদের পরিবহন খরচ সরকার বহন করে। পরবর্তীতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগেই এখানে সবজি নিয়ে আসবেন।

এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন ক্রেতারা। কীটনাশকমুক্ত সবজির নিশ্চয়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বেসরকারি চাকরিজীবী সৈয়দ আতিকুল ইসলাম জানান, প্রথমত ভালো লাগছে যে, এখানে সরাসরি কৃষকরা দাম পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত শাকসবজিগুলো সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত। তাই একসঙ্গে অনেক কিনে নিচ্ছি। তবে এ বাজারে বিভিন্ন পণ্যে দামের আধিক্য রয়েছে বলেও অভিযোগ কোনো কোনো ক্রেতার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কৃষকের বাজারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন—বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রবার্ট ড. সিমপন প্রমুখ।