কুমিল্লায় ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনা বাড়ছে

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

কুমিল্লায় ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরের ২৯ মে, ১৬ নভেম্বর এবং সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা ও পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথে পৃথক এসব চুরির ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংকের প্রধান শাখার এটিএম বুথের মেশিন থেকে গত ১৬ নভেম্বর ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে অভিনব কৌশলে বুথের মেশিন খুলে একজন ব্যক্তি ঐ টাকা চুরি করে, যা ব্যাংকের সিসি টিভির ফুটেজেও ধরা পড়ে। এ ঘটনার চার দিন পর ঐ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মাইনুল ইসলাম কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত চোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। কিন্তু ঘটনার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গত ২৯ মে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী আলিয়া কামিল মাদরাসা শাখা কৃষি ব্যাংকের জানালার গ্রিল কেটে ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শেখ মাহবুব হোসেন জানান, চুরির ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেফতার বা চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি। সর্বশেষ গত (৩ ডিসেম্বর) রাতে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার শাখা কৃষি ব্যাংকের জানালার গ্রিল কেটে ব্যাংকের ভল্টের তালা ভেঙে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সাকিব সালেহীন বুধবার বিকালে থানায় মামলা দায়ের করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিগত সময়ে একাধিক ব্যাংকে পৃথক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে, তদন্তও চলছে। কিন্তু টাকা উদ্ধার কিংবা চোরের কোনো হদিস মেলে না।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা চুরির এসব ঘটনা গুরুত্বসহকারে আমরা তদন্ত করছি। আশা করি, দ্রুত সফলতা পাব। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’

কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কুমিল্লায় যোগদানের পর সবগুলো ব্যাংকের জেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু ব্যাংকের কোনো কোনো শাখায় সিসি ক্যামেরা নেই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল। তবে এসব চুরির ঘটনা তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি, সহসাই জড়িতরা ধরা পড়বে।’