চার মাসেও সচল হয়নি দৌলতদিয়ার দুই ফেরিঘাট

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এবারের বন্যায় তীব্র নদী ভাঙনের কবলে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়ার দুটি ফেরিঘাট বিলীন হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সচল করা সম্ভব হয়নি। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাটগুলোর নির্মাণকাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এদিকে নির্মাণকাজের মান নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। 

জানা যায়, চলতি বছর জুলাই মাসে পদ্মার তীব্র ভাঙনে ব্যস্ততম দৌলতদিয়ার ২টি ফেরিঘাট সম্পূর্ণ ও একটির আংশিক নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে করে ঐ ঘাটগুলো দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঘাটগুলো পুনঃস্থাপন ও এপ্রোচ সড়ক তৈরি করে যানবাহন পারাপারের উপযোগী করে তোলার জন্য ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পায় মেসার্স ডালাস ইন্টারন্যাশনাল নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঐ ঘাটগুলো তাদেরই রক্ষণাবেক্ষণের কথা। কিন্তু তারা ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ করছে। রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ বাঁচাতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ১ নম্বর ফেরিঘাটে উঁচু রাস্তা ভেকু দিয়ে কেটে অত্যন্ত খাড়াভাবে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আবার সংলগ্ন এলাকায় নদীর অন্তত ২৫ থেকে  ৩০ ফুট গভীর পানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে নিম্নমানের ইটের খোয়া ভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা। এ সময় ১৫/২০ শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে মেসার্স বেলাল এন্টারপ্রাইজ নামে অপর একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত বেলাল হোসেন জানান, তার মালিক মেসার্স ডালাস ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে এ কাজ পরিচালনা করছে। ২ নম্বর ফেরিঘাটে দেখা যায়, এপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করে তার মাথায় একটি পন্টুন বসানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাটটি সচল দাবি করলেও তাতে যানবাহন পারাপার হতে দেখা যায়নি।

এ সময় আক্কাছ আলী নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ‘এই ঘাটগুলো যেভাবে ঢালু করে তৈরি করা হচ্ছে তাতে মাল বোঝাই ট্রাকগুলোকে ফেরি থেকে নেমে উপরে ওঠতে সমস্যা হবে। এপ্রোচ সড়কগুলো আরো দূর থেকে কেটে এনে কিছুটা ঢালু করা দরকার ছিল। তাহলে মালভর্তি ট্রাকগুলো ফেরিতে ওঠা-নামা করা সহজ হতো।’

বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বরত প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, এক সপ্তাহ আগে ২ নম্বর ফেরিঘাটটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগামী তিন/চার দিনের মধ্যে ১ নম্বর ঘাটের নির্মাণকাজও শেষ হয়ে যাবে। গভীর পানিতে খোয়া ভর্তি বস্তা ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ঐ বস্তাগুলো পন্টুনের র্যাম স্থাপনের জন্য ফেলা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ইতিমধ্যে ২ নম্বর ফেরি ঘাটটি সচল ঘোষণা করেছে।  তবে ১ নম্বর ঘাটের পন্টুন ৩ নম্বর ঘাটে স্থাপন করে সেখান দিয়ে যানবাহন উঠা-নামা করছে। তাই তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না।