ম্যাসাজের ইন্টার্নশিপ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:০৮

 হিমু চন্দ্র শীল

 

কক্সবাজার সাধারণত পর্যটকদের স্বর্গ। সব সময় পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে এই স্থান। তবে মাঝেমধ্যে এই পর্যটন স্থানে অদ্ভুত কিছু হয়ে থাকে। ভোর সাড়ে ৫টায় গাড়ি থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে নেমে, আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা হোটেলে ব্যাগপ্যাক রেখে, বন্ধুরা সবাই মিলে নেমে গেলাম বিচে। জনমানবশূন্য বিচে একটা ছাতা নিয়ে বসে বসে ভোরের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। এমন সময় পাশে চোখ ফেরাতেই দেখলাম কনকনে ঠান্ডার মধ্যে চুল স্পাইক করা, কানে দুল, হাতে দু-একটা চুড়ি পরা এক ছোকরা শিস দিতে দিতে আসছে। ‘অ্যাই মামা, ম্যাসাজ, ম্যাসাজ! ম্যাসাজ লাগবনি মামা, ম্যাসাজ। এক্কেবারে থাই স্পার মতো কইরা দিমু।’ ছোকরাটার কথা শুনে পাশে বসতে বললাম, ‘কী রে, তোর নাম কী?’ ‘মামা, হিমেল।’ ‘তোর বয়স কত হবে রে?’ ‘বারো।’ ‘এত্ত সকালে কী করতে বের হইছিস?’ প্রশ্নটা শুনে হিমেল চমকে ওঠে। একটু মজা করে বললাম, ‘নিশ্চয় পকেটমারের ইন্টার্নি করতে বের হইছিস। কী রে ঠিক বললাম না?’ হিমেল কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘মামা, পকেটমারটা বুঝলাম কিন্তু ইন্টার্নিটা বুঝলাম না। ওইটা কী জিনিস? খায় নাকি গায়ে দেয়?’ ‘বেশি পাকনা হয়ে গেছিস। ইন্টার্নি হলো গিয়ে, কোনো কাজ পেশাদারিভাবে করার আগে হাত পাকানোর জন্য প্রাথমিকভাবে যেটা করে ওটাকে বলে।’ ‘অঅঅঅ... তার মানে আপনি আমারে পকেটমার ভাবলেন! ছিঃ মামা, ছিঃ।’ ‘আরে না, তোকে কেন ভাবব বল তো। ওই এত্ত ভোরে দেখলাম তাই আর কি! না হলে এত ভোরে কোনো মানুষ কি বের হয় বিচে?’ হিমেল হাসে। তার থাই ম্যাসাজ নিতে জোরাজুরি করে। কিন্তু আমরা নিই না। ‘অ্যাই হিমেল, তুই সত্যি করে বল তো, তুই এত সকালে কেন ঘুরঘুর করছিস এখানে?’ হিমেল ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে বলে, ‘সত্যি বলব না মিথ্যে?’ ‘তুই মিথ্যেটাই বল।’ ‘তুমি না মামা বড্ড আজব লোক। মানুষ সত্যি জানাবার চায় কিন্তু তুমি মিথ্যে জানবার চাও।’ হিমেল এখন আমাকে আপনি থেকে তুমি ডাকা শুরু করেছে। ‘এখন দুনিয়া উল্টারে। সবকিছু উল্টা হয়। তাই উল্টিয়ে বলছি। তুই এত কথা বলিস ক্যান রে। আসল কথাটা বল আগে।’ ‘মামা তুমি কী যেন বললা না, ওই যে ইন্টার্নশিপ, আমি ওটাই করতে বের হইছি। তবে ওটা পকেটমারার ইন্টার্নশিপ না, ম্যাসাজ করার ইন্টার্নশিপ। তুমি মিয়া আমার সময়টা হুদাই নষ্ট করলা। কোনো ম্যাসাজ-ত্যাসাজ নিলা না।’ হিমেল শিস দিতে দিতে চলে যায়। ‘অ্যাই ম্যাসাজ, ম্যাসাজ, ম্যাসাজ নিবেন মামা, ম্যাসাজ!’

কক্সবাজার সরকারি কলেজ