কেন সরলেন ‘লেডি ওবামা’

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

তাকে বলা হচ্ছিল ‘লেডি ওবামা’। ২০২০ সালের নির্বাচনে জিতলে তিনিই হতেন আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সেই কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট দৌড় থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন সম্প্রতি। আর সেই খবর জানার পরই ‘আপনাকে মিস করব’ বলে টুইট করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট সিনেটরও টুইটের জবাব দিলেন ঝটপট। লিখলেন, ‘চিন্তা করবেন না মিস্টার প্রেসিডেন্ট। বিচারে আপনার সঙ্গে দেখা হবে।’ ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের পক্ষে এত দিন ধরে জোর লড়াই করে এসেছেন কমলা। প্রেসিডেন্টের টুইটের জবাবে তাই সেই প্রসঙ্গই টেনে এনেছেন তিনি।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট দৌড় থেকে আচমকা নাম তুলে নেওয়ায় হতাশ কমলার সমর্থকেরা। অনেকেই ভেবেছিলেন, বারাক ওবামার পরে হয়তো আরো এক কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের গদিতে বসতে চলেছেন। কিন্তু প্রচার চালানোর মতো যথেষ্ট অর্থের অভাবেই যে মূলত তাকে দৌড় থেকে সরে আসতে হলো, তা সমর্থকদের একটি ই-মেইলে জানিয়েছেন ৫৫ বছরের কমলা। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক ভেবে-চিন্তে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হলো। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে গেলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই অর্থের প্রবল সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এই অবস্থায় প্রচার চালানো আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমি তো আর অনেকের মতো ধনকুবের নই।’ এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কমলা মূলত নিউইয়র্কের ধনকুবের তথা সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই ডেমোক্র্যাট নেতার জনপ্রিয়তা বাড়ছে হু হু করে। প্রচার চালানোর অঢেল অর্থ নিজেই জোগাতে পারছেন ব্লুমবার্গ। তার জন্য বাকি প্রার্থীদের মতো ‘ফান্ডরেইজিং’-এর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে না তাকে। কমলার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তার সাফ কথা, ‘আমাদের দেশের নির্বাচনী নীতিটাই এমন। ধনকুবেররা সহজেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই সুযোগ পেয়ে যান। সত্ হলেই দেশবাসীর সেবা করার ইচ্ছা পূরণ হবে না। থাকতে হবে কাড়ি কাড়ি অর্থ।’

কমলা নিজে অর্থ সঙ্কটের কথা বললেও প্রথম দিকে তার প্রচারের জন্য বেশ ভালোই অর্থ উঠছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু জরিপে দেখা গিয়েছে, মাঝপথে হঠাত্ই তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। প্রচার বিশেষজ্ঞরা অনেকেই জানাচ্ছেন, এর জন্য কমলা নিজেও কিছুটা দায়ী। জাতীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে ভোটারদের বিশেষ আশার আলো দেখাতে পারেননি তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মধ্যে নতুন কী দেখতে পাওয়া যাবে, সেই প্রশ্নের জবাবও ঠিকমতো দিতে পারেননি কমলা। গত কয়েক মাসে দুই থেকে তার রেটিং তাই নেমে গিয়েছিল ছয়ে।

কমলা সরে দাঁড়ানোর পরে রিপাবলিকানদের প্রার্থী তথা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াবেন, তার জন্য এখন লড়াই চলবে ১৫ জন ডেমোক্র্যাট নেতার মধ্যে। যাদের মধ্যে পাল্লা ভারী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। কমলার সরে যাওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে ব্যাখ্যা করেছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, কমলার মধ্যে অনেকেই ওবামার ছায়া দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমতি মহিলা। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দারুণ ছিলেন।