এম এ আলআমিন
ব্রিটেনে ১২ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন। দুই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো আগাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ নির্বাচন। সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি বিরোধী লেবার পার্টির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। এ কারনে ধারনা করা হচ্ছে, তারাই এবারও ক্ষমতায় আসছে। এবারের নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেয়া অথবা এই ইস্যুতে নতুন করে গণভোট আয়োজন, সব কিছু করতে হবে নতুন সরকারকে। ৬ নভেম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে জনসন নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন? তার মতে দ্রুত ব্রেক্সিট চাইলে টোরি (কনজারভেটিভ) দলকেই ভোট দিতে হবে। তিনি ক্ষমতায় এলে প্রথমে ইইউর সঙ্গে সম্পর্কেও পাঠ চুকিয়ে পরে দেশের জন্য জরুরি কাজগুলোতে হাত দেবে তার সরকার। তিনি বর্তমান অচলাবস্থার জন্য পার্লামেন্টকে দায়ী করে তিনি নিজের দলের জন্য জোরালো সমর্থনের আবেদন করেছন। কনজারভেটিভ পার্টি টানা ৯ বছর ক্ষমতায় আছে। পরপর দুইবার ২০১০ এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি সরকার পরিচালনা করে। এর আগে পরপর তিনবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লেবার পার্টি ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এরপর ২০১৭ সালের ৮ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে প্রথম আগাম নির্বাচন আয়োজন। ঐ নির্বাচনে আসন কিছু কমলেও কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় থাকে মে’র সরকার।
১৯২৩ সালের পর এই প্রথমবার যুক্তরাজ্যে ডিসেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে। জনসন আশা করছেন যে, বেক্সিট চুক্তি এবং বর্তমান পার্লামেন্টে অচলাবস্থা নিরসনে তাকে নতুন করে ম্যান্ডেট এনে দেবে নির্বাচন, যে ব্রেক্সিটের জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পেয়েছে যুক্তরাজ্য। জনসন ও বিরোধী নেতা জেরমি করবিন শুক্রবার চূড়ান্ত টিভি বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হন। তারা এ সময় বেক্সিট নিয়ে বিবাদে জড়ান। বিবিসি আয়োজিত সরাসরি সম্প্রচারিত বিতর্কে করবিন বলেন, লেবার পার্টি জিতলে তারা আলোচনা করে একটি নতুন চুক্তির মাধ্যমে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ইতি ঘটাবেন এবং বিকল্প পন্থা হিসেবে গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা জনগণের হাতে ছেড়ে দেবেন। জনসন বলেন, তিনি চমত্কার একটি চুক্তি করেছেন এবং ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বের করে নিয়ে আসতে এটি ব্যবহার করবেন। বিতর্কে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, নিরাপত্তা ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়টি উঠে আসে। উপস্থাপক নিক রবিনসনের সঞ্চালনায় বিতর্কের শুরুতে লেবার নেতা করবিন বলেন, গণভোট দেয়ার আগে তিনি ইইউ-এর সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে একটি নতুন বিচ্ছেদ চুক্তির জন্য আলোচানা করবেন। এতে কাজ না হলে ছয় মাসের মধ্যে গণভোট দেবেন। বরিস তার কথার প্রতিবাদ করে বলেন, তিনি এরই মধ্যে একটি চুক্তি করেছেন এবং তিনি এটি আগামী মাসে ইইউ ত্যাগ করতে কাজে লাগাবেন যদি তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। তবে নিক রবিনসন জনসনকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যখন জনসন একটি বেক্সিট চুক্তি করেছেন তখন তিনি ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেননি। সুতরাং তিনি জানুয়ারীতি চুক্তিহীন বিচ্ছেদকে বাদ দিতে পারবেন না। লেবার পার্টি বলেছে, ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, জনসনের চুক্তির ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ওপর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এই বিষয়টি বিতর্কে উঠলে করবিন তার প্রতিদ্বন্দ্বিকে বলেন, জনসন ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সম্মেলনে বক্তৃতা করেন এবং বলেন, যাই ঘটুক না কেন সেখানে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না, আমরা এখন জানছি সেখানে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে জনসন দর্শকদের সরব প্রশংশা আদায় করে নেন যখন তিনি বলেন, ডিইউপির সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতা করবিনের এখানে টেনে আনার বিষয়টিকে তিনি সামান্য উত্সুক দৃষ্টিতে দেখছেন। এসময় তিনি যারা একটি সংযুক্ত আয়ারল্যান্ড দেখতে চায় তাদের জন্য লেবার নেতাদের অতীত সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
