তৌহিদ আজিজ
ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে কি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে? সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে বেশ সরগরম আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের যথেষ্ট সামরিক সামর্থ্য রয়েছে। সে বিবেচনায় তাদের নতুন করে সেনা বাড়ানোর কোনো চিন্তা নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইক এসপারের বক্তব্যেও একই কথা উঠে এসেছে। তিনি এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নতুন করে সেনা পাঠানোর কোনো চিন্তা নেই।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১৪ হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে বলে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। নাম প্রকাশ না করে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যেন কোনোভাবে তার প্রভাববলয় তৈরি করতে না পারে সে কারণেই এই পদক্ষেপে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আরো বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত এ মাসেই এ নিয়ে একটা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আর এরপরই বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ভুয়া’ আখ্যায়িত করে এ ধরনের খবরকে উড়িয়ে দেয়। পেন্টাগনের তরফ থেকেও এর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র অ্যালিসা ফারাহ প্রতিবেদনটিকে ভুল আখ্যায়িত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইক এসপারও খবরটি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর যথেষ্ট সামরিক সামর্থ্য রয়েছে। কাজেই নতুন করে সেনা পাঠানোর কোনো চিন্তাভাবনা তাদের নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিষয়টি অস্বীকার করলেও সাংবাদিকদের দেওয়া প্রশ্নে ভবিষ্যতে সেখানে তাদের বাহিনীর পুনর্বিন্যাস কিংবা পরিধি বাড়ানো হবে কি না সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিফেন্স ফোরামে যাওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তা একটি মিথ্যা প্রতিবেদন। তবে আমাদের প্রতিটা কমান্ডারই চান তাদের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি পাক। কিন্তু আমরা মনে করি, শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার মতো যেটুকু সামর্থ্য দরকার, তা আমাদের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সেনা মোতায়েনের খবর অস্বীকার করলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাস থেকে সেখানে বিভিন্ন ধাপে মোট ১৪ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। আর বিষয়টি ইরানকে প্রতিহত করতেই করা হচ্ছে বলে তাদের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মধ্য নভেম্বরে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন প্রতিবাদ বিক্ষোভে তারা মারা যান। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেছেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইসলামিক এই রিপাবলিক বড়ো বড়ো রক্তক্ষরণের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বেশি সৃষ্টি হয় সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নিয়ে। ওয়াশিংটন এ জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইরানও তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নিদর্শন বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপনে ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে ইরান। ইরাকে বর্তমানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তেহরান সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায়ই এটা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন ঐ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য একটি হুমকিস্বরূপ।
