সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১১

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা শহরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ইবি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে দায়ী করেছে। বিএনপি দাবি করেছে,    তাদের আট জন বুলেটবিদ্ধ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের টুকু ব্রিজের ওপর সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের বিজয় র্যালি এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল মুখোমুখি হলে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশত টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্যোগে একটি বিজয় র্যালি বের হয়। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ মুক্তিযোদ্ধারা এতে নেতৃত্ব দেন। শান্তিপূর্ণ র্যালিটি ইবি রোড এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মামুনুর রশিদ, ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাসেল, যুবলীগের কর্মী সালমান, শামীম, শুকুরসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ হাসান অভিযোগ করে জানান, বেলা ১১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা বিএনপি পুরাতন শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌর ভাসানী মিলনায়তনের মুক্তমঞ্চে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিল। এ সময় মিছিলসহকারে ঘটনাস্থলে এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালান। তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেল এবং পুলিশের টিয়ার ও রাবার শেলের আঘাতে জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন হিটলার, যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আব্বাস, ছাত্রদলের জুলমত, নাদিম, রানা, ছোটো সবুজ, রতন, সাবিব, যুবদলের নয়ন, খোকন, মীম, ইমরান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সালাউদ্দিনসহ অন্তত ৩০-৩২ জন নেতাকর্মী আহত হন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সবুজ চত্বরে চলা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা হামলা চালিয়েছে। পুলিশের ছত্রছায়ায় সরকারি দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা মোস্তফা জামান জানান, জেলা বিএনপির কার্যালয়ের পাশে ইবি রোডে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে হামলা চালান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, বিজয় র্যালি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঐ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. ফোরকান শিকদার বলেন, পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিএনপির লোকজন পুলিশের ওপর উলটো হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্না সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, বিজয়ের মাসে সরকারি কলেজের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র-জনতার বিজয় র্যালি বের করা হয়েছিল। র্যালির পেছন থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তারা যে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি, এই হামলা তারই প্রমাণ।

ফরিদপুরে হামলার অভিযোগ :ফরিদপুরে শহর ও কোতোয়ালি বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভে পুলিশ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এতে কয়েকজন আহত হন। দিনাজপুরে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। কুড়িগ্রামেও পণ্ড হয়ে যায় মিছিল। বগুড়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে আসা বিএনপির তিন কর্মীকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদীতে পুলিশের বাধা :খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে নরসিংদী জেলা বিএনপি। দুপুরে শহরের চিনিশপুরের জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জেলখানার মোড়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশি বাধায় সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিএনপির নেতারা।

রাজধানীতে বিক্ষোভ, আটক ১২

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সব থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ থানা বিএনপির নেতা মো. রফিক, মো. আসিফ, মইন, হূদয়, লিমন, রহিমসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।