তেলাপোকা একটি পাখি, আপনিও একটা মানুষ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৭

মাদারীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিকনেতা শাজাহান খানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)। বৃহস্পতিবার বিকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের গোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় শাজাহান খানের উদ্দেশ্যে নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, ‘আপনার মতো কাগুজে বাঘ আমি সকাল-বিকাল নাশতা খাই। আমার এলাকার এক কোদাল মাটি যদি কাটা পড়ে, তাহলে আপনার রাজনীতির বারোটা বাজাইয়া তেরোটা কইরা ছাইড়া দেব।’ নিক্সন চৌধুরীর এই বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

কালামৃধা এলাকায় ভাঙ্গা ও পাশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মধ্য দিয়ে কুমার নদ বয়ে গেছে। ওই নদের খননকাজ করছেন শাজাহান খানের ভাই হাফেজুর রহমান খান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদে চর পড়েছে রাজৈর এলাকায়। কিন্তু নদের ওই অংশে খনন না করে ভাঙ্গার পাশের অংশে খনন করায় নদের তীরসংলগ্ন একটি বাড়ি ও একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিষয়টি উল্লেখ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ভাঙ্গায় এক কোদাল মাটি কাটা হলে শাজাহান খানের বাড়ির ১০০ কোদাল মাটি কেটে নেওয়া হবে। শাজাহান খানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাশের উপজেলায় একটা কাগুজে বাঘ আছে। এই জায়গার বাঘটা (কাজী জাফর উল্যাহ) ধইরা খাঁচায় ঢুকাইছি, এবার মাদারীপুরের বাঘটাকে ধরমু। এবার এই বাঘটারে শিকার করার খুব ইচ্ছা আমার।’ তিনি বলেন, ‘তেলাপোকাও একটা পাখি, আর শাজাহান খানও মানুষ। ওনারে আমি মানুষ মনে করি না, তেলাপোকার মতো পাখি। ওনার ওস্তাদরেই খাইয়া ফেলাইলাম, আর উনি তো কোনো বিষয় না। আমার সাথে খেলতে আইসেন না। জন্মের পর থেকে আমার বাপে আমারে প্লেয়ার বানাইছে। তাই খেলা আমরাও জানি। শাজাহান খান সাহেব আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম, আপনার যদি সাহস থাকে, তাহলে নিক্সন চৌধুরীর সাথে মোকাবিলা করেন।’

এমপি নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘উনি মাঝে মাঝে হায়ারে আসেন আমার এলাকায়। এখন আর চোখে পড়ে না। উনি যেই দেশ থেকে এসেছেন সেই নাইজেরিয়ায় ওনারে পাঠাইয়া দিমু। শাজাহান খান সাহেব, আপনি গণবাহিনীর ডাকাত ছিলেন। ডাকাত ছিলেন, তাই থাহেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওনার সব লাগে। কাজী জাফর উল্যাহ এখন পুত পুত করে, এখন আসে যায় করে। আপনারেও সাবধান কইরা দিলাম, নিজের ভবিষ্যত্টা ডুবাইয়েন না। আমার বড়ো ভাই ভদ্রলোক মানুষ, আপনারে চাচা কইয়া ডাকে। কিন্তু হাতের পাঁচ আঙুল সমান না। লিটন চৌধুরী যা সহ্য করবে, নিক্সন চৌধুরী তা করবে না।’