অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিল পাশ

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৫

ভারতের লোকসভায় পাশ হলো বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব বিল। দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে এই বিলটি পাশ করা হয়। বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে বিরোধীরা তুমুল হৈ চৈ করেছেন। কংগ্রেস বিলটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেছে। শিব সেনা বলছে, এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বলেছে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ না হলে এই বিলের প্রয়োজন হতো না। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের কোনোটিই কার্যকর হবে না তার রাজ্যে।

পার্লামেন্টে তুমুল হট্টগোল

অনেকদিন ধরেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভারতে বিতর্ক চলছে। গতকাল সেই বিতর্কের ঝড় শুরু হয় পার্লামেন্টে। এই বিল কেন প্রয়োজন তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, বিলটি আনতে সরকার বাধ্য হয়েছে। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তিনি আরো দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে কংগ্রেস যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হতে না দিত, তাহলে আজ এই বিল আনার প্রয়োজনই হত না। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, অমিত শাহের এই মন্তব্যের পর লোকসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু করেন কংগ্রেসসহ বিরোধী এমপিরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিলটি পেশের জন্য কণ্ঠ ভোট হয়। পক্ষে ২৯৩টি ও বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮২টি। এরপর বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায়।

পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ

বিলটির বিরুদ্ধেলোকসভায় বিল নিয়ে চর্চা শুরু হতেই হইচই জুড়ে দেন বিরোধীরা। বিলটি নিয়ে লোকসভায় বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় স্পিকার ওম বিড়লাকে। বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলে বাইরেও। বিল পেশের আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখান অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) এমপি বদরুদ্দিন আজমল। সিএবি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অংশের মানুষ। বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয় ত্রিপুরাতেও। অমিত শাহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোকে বিক্ষোভ না দেখানোর আহ্বান জানান।

অসাংবিধানিক : কংগ্রেস

বিলটি ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলে ব্যাখ্যা করেন তৃণমূল কংগ্রেস এমপি সৌগত রায়। বিলের একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তোলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীও। বিলটি সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের নিশানা করেই এই বিলটি বানানো হয়েছে। অধীর স্পষ্ট অভিযোগ করেন, বিলটি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। ঐ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও এদিন অমিত শাহর অবশ্য দাবি করেছেন, এই বিল সংখ্যালঘুদের বিরোধী নয়।

অদৃশ্য বিভাজন তৈরির চেষ্টা : শিবসেনা

নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি) নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণে শিবসেনা। তাদের অভিযোগ, কেবল হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিয়ে ‘ধর্মযুদ্ধে’ ইন্ধন জোগাচ্ছে মোদি সরকার। হিন্দু ও মুসলিম-এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।