হাসি-কান্নায় ‘প্রোজ্জ্বল ১৫’

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  রায়হানুল ইসলাম সৈকত, আবু জাহিদ

 

এইতো সেদিনই শুরু হয়েছিল একঝাঁক তরুণ-তরুণীর পথচলা। যাদের চিন্তা-ভাবনা ও কর্মকাণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে মুক্তির আলো। এই মুক্তি সব অরাজকতা কিংবা বন্দিদশা থেকে মুক্তি। বলছি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা। তাদের বিদায়ের বার্তা জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল ‘র্যাগ ১৯’, যার শাব্দিক নাম ছিল ‘প্রোজ্জ্বল ১৫’ এবং মূলমন্ত্র ছিল ‘মুক্তির আলোয় ফুটন্ত শতদল’। 

প্রোজ্জ্বলদের বিদায় জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজন। প্রথম দিন বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় আবিরের রাঙায় পরবর্তী জীবনকে রাঙিয়ে তোলার আকুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বর, মিডিয়া চত্বর, একাডেমিক চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় আবিরের আভায় বিদায়ের বেদনাকে ভোলাতে চেষ্টা করে। বিদায়ের মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে প্রোজ্জ্বলরা সাদা টি-শার্টে প্রিয় বন্ধুর লেখা স্মৃতিচিহ্ন গায়ে জড়িয়ে মুখে আবিরের ছোঁয়া দিয়ে জীবনকে রাঙিয়ে তোলার আহ্বান জানায়। সন্ধ্যায় শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গানসহ বিভিন্ন আয়োজন। দ্বিতীয় দিনে ক্যাম্পাসের নিজস্ব কয়েকটি ব্যান্ড দল এবং আমন্ত্রিত দুই জনপ্রিয় ব্যান্ড দল আভাস ও আর্বোভাইরাসের পরিবেশনায় শুরু হয় জমজমাট কনসার্ট। 

কনসার্ট চলাকালীন প্রোজ্জ্বলদের মনে পড়ে যায় লিপুস ক্যান্টিন, সোবাহান সড়ক কিংবা মেইন গেটের সামনে আড্ডার কথা, ক্লাস-পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপ, বন্ধুত্বের রাগ-অভিমান। মনে পড়ে যায় ক্যাম্পাসের সামনে মধুমতী নদীর পাড়ে কিংবা চাপাইল ব্রিজের ওপর পড়ন্ত বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে একবুক শ্বাস নেওয়ার কথা। প্রোজ্জ্বলরা বুঝতে পারে, কিছুক্ষণ পর থেকে সবই স্মৃতি হতে চলেছে। ঠিক তখনই আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে বারুদের মতো ছুটে আসে চোখের জল। কনসার্টের বাজনার আড়ালে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নার দৃশ্য সবাইকে নির্বাক করে। সে সময় ক্যাম্পাসের জুনিয়ররা চোখের জলে ৫৫ একরের মাটি ভিজিয়েছে। শিক্ষকদেরও কান্নাভেজা চোখ বারবার মুছতে দেখা যায়। প্রোজ্জ্বলরা বুঝতে পারে, এত আয়োজন শুধু বিদায়ের কষ্টকে আড়াল করতে। তারপরও বিদায়ের ক্ষণে দুঃখ নিয়ে বসে থাকতে রাজি নয় প্রোজ্জ্বলরা। পড়ালেখায় সাফল্য অর্জন, বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ খেলাধুলার জগতে অবাধ বিচরণ ছিল ২০১৫-১৬ শিক্ষার্ষের শিক্ষার্থীদের। তারা আবিষ্কার করেছে সব অভাবনীয় বিস্ময়। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম প্রোজ্জ্বল হয়েছে তাদের সাফল্যে। এই সফলতাকে বহু দূর এগিয়ে নেওয়ার জন্য নবীনদের জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বিদায়ী প্রোজ্জ্বলরা।