ডেনমার্ক বাংলাদেশ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০১৯
>> ছাইফুল ইসলাম মাছুম
দুটো ভিন্ন দেশ। দু দেশের আলাদা নিয়মকানুন, আলাদা সংস্কৃতি। একটি ডেনমার্ক, ইউরোপের সমৃদ্ধ একটি দেশ। অন্যটি দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ—বাংলাদেশ। দু দেশের তরুণদের নিয়ে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। গত ২ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বাংলাদেশের ২৭ জন ও ডেনমার্কের ২৬ তরুণ অংশ নিয়েছে। ১৪ দিনের অন্য রকম এই আয়োজনে দুই দেশ সম্পর্কে জেনেছে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা। তরুণেরা তুলে ধরেছে নিজ নিজ দেশের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য ছিল দু দেশের তরুণদের ভাবনা বিনিময়। আর এ সময়ের মধ্যে একটি সমস্যা চিহ্নিত করে, ওই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রজেক্ট তৈরি করেছে তরুণেরা। এর মধ্য দিয়ে তরুণেরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষম করে তুলতে পারবে বলে ধারণা আয়োজকদের। ডেনমার্ক থেকে আসা তরুণী রোজা ক্লাভার রাংস্টেড বলেন, ‘ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে বাংলাদেশে এসে প্রচুর বন্ধু পেয়েছি। শিখেছি কীভাবে প্রজেক্ট তৈরি করতে হয়। কীভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হয়। আর ফিল্ড ভিজিটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কষ্টের কথা জেনেছি।’ বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া তরুণ ওবায়েদুল্লাহ আল ইমন বলেন, ‘ডেনমার্কের তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বাংলাদেশ সম্পর্কে এবং তাদের দেশ সম্পর্কে অনেক আলাপ হয়েছে। অনেক নতুন বিষয় জেনেছি।’
বাঙালি কালচারাল নাইট
বাংলাদেশি তরুণেরা ৭ নভেম্বর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু করে ‘বাঙালি কালচারাল নাইট’। এতে স্থান পায় ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ। মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় বাল্যবিবাহের কুফল, মুখাভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় শিশু নির্যাতনের চিত্র। বৈচিত্র্যময় র্যাম শোতে যেন উঠে আসে এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।
ড্যানিশ কালচারাল নাইট
ড্যানিশ তরুণদের অংশগ্রহণে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এই কালচারাল নাইট। তরুণেরা অভিনয় কৌতুক নাটকের মাধ্যমে ডেনমার্কের চিত্র তুলে ধরেন। এতে গুরুত্ব পায় ডেনমার্কের তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা, অধিকার আদায়ের আন্দোলন, নিজস্ব কালচার, ড্যান্স ও হিপহপ গান।
কমিউনিটি ইভেন্ট
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের যৌথ আয়োজনে কক্সবাজার শহিদ মিনারে আধা বেলাজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় কমিউনিটি ইভেন্ট। এই ইভেন্টে ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ভিডিও ও ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেখানো হয়। সঙ্গে ছিল গান মুখাভিনয়। এতে স্থানীয় মানুষজন, সংবাদকর্মী, এনজিও কর্মীরা অংশ নেয়।
ট্রি অব চেঞ্জ
ট্রি অব চেঞ্জ ছিল একদিনের প্রোগ্রাম সেশনের নাম। এই সেশনে তরুণেরা চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করেছে, পরে সমাধানের পথ খুঁজেছে। একটি পোস্টারে গাছ এঁকে খুঁজে বের করা হয়েছে সমস্যার শিকড়। পরে ডালপাল বেয়ে কাণ্ডে পাতায় আঁকা হয়েছে সমাধান।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট
কক্সবাজারে ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ডেনমার্ক ও বাংলাদেশ ৫৩ তরুণ রোহিঙ্গাদের সমস্যা অনুধাবন করতে দুইদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করেন। প্রথমে ৪ নভেম্বর ১৩ এবং ১৪নং ক্যাম্প ভিজিট করেন। পরে ৭ নভেম্বর ১৫ নম্বর ক্যাম্প ভিজিট করেন। প্রথম দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ নাহিম রাজ্জাক তরুণদের সঙ্গে অংশ নেন। এ সময় তিনি দুই দেশের তরুণদের রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করেন।
লোকাল কমিউনিটি ভিজিট
ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া তরুণেরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিটের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত লোকাল কমিউনিটিও ভিজিট করেন। জানতে চান রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাদের অভিব্যক্তি, জানতে চান তাদের দুঃখ কষ্ট এবং বঞ্চিত হওয়ার কথা।
প্রোগ্রামের সমন্বয়ক মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, ‘ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যেমে বাংলাদেশ এবং ডেনমার্েকর তরুণদের মধ্যে সংস্কৃতিক, দৃষ্টিভঙ্গি এবং নলেজ শেয়ারিং হয়েছে; যা থেকে দুই দেশের তরুণরাই অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। যার মাধ্যমে প্রত্যেকে অংশগ্রহণকারীর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয় হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।’
আয়োজক সংস্থার তথ্যমতে, ২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে ১৪ নভেম্বর। ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে দ্য আর্থ সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইন্টার কলেজ, ইয়ুথ অ্যাকশন, এফজিইউ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস।
