ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) প্রত্যাহার করতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির লেখক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, মানবাধিকার কর্মীসহ ছয় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। বিতর্কিত ঐ বিলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম শরণার্থীদের উপেক্ষার প্রশ্ন তুলে বিলটিকে ‘বিভাজক, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
খোলা চিঠিতে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, ‘দেশ জুড়ে এনআরসির পাশাপাশি এই বিলও মানুষের জন্য অবর্ণনীয় ভোগান্তি বয়ে আনবে। এটা ভারতের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এজন্য আমরা এই বিল প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করতে বলছি।’ বুকার পুরস্কারজয়ী অরুন্ধতী রায় ছাড়াও চিঠিতে স্বাক্ষর করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন লেখক নয়নতারা সাহগল, অশোক বাজপেয়ি, পল জাকারিয়া, অমিতাভ ঘোষ, শশী দেশপান্ডে, চলচ্চিত্র নির্মাতা অপর্ণা সেন, নন্দিতা দাস ও ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার। খবর এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুর
এদিকে ভারতের ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) তীব্র সমালোচনা করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন দেশটির কয়েকজন সাবেক আমলা (আইএএস)। মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক আইএএস কর্মকর্তা হর্ষ মন্দার বলেছেন, ‘বিলটি পার্লামেন্টে পাশ হলে আমি মুসলিম হওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করব। তারপর এনআরসির জন্য কোনো নথি জমা দেব না। নথিবিহীন মুসলিমদের যে শাস্তি দেওয়া হবে, নিজের জন্য আমি সেই শাস্তির দাবি তুলব। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের মতো শাস্তি চাইব।’
একই রকমের ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য আইএএসের চাকরি ছেড়ে দেওয়া শশীকান্ত সেন্থিলও। তিনি এনআরসি হলে কোনো নথি জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘আমি নাগরিক নই বলে ঘোষণা দিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে যাব।’
সোমবার মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে ভারতের লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিল। গতকাল বুধবার এটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করা হয়। অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় এটি উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই বিলকে ‘মুসলিমবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
