ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়ে তুলতে অব্যবহূত জায়গায় শিল্পনগরী স্থাপন করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে শিল্প মন্ত্রণালয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্প এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভলপমেন্ট বিল্ডের যৌথ আয়োজনে ‘এসএমই নীতি ২০১৯’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসএমই সেক্টরে ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। এ খাত শ্রমঘন এবং উত্পাদন সময় স্বল্প হওয়ায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অবদান রাখতে সক্ষম। তিনি জানান, নতুন এসএমই নীতিমালায় মূলত ছয়টি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে। অনেকগুলো নতুন বিষয় এই নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। যেমন-এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা এবং এটি চালু হলে মর্টগেজের ব্যবস্থা থাকবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, সহজ শর্তে ও অল্প সুদে ঋণ প্রদান, নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (স্টার্টআপ) করার ক্ষেত্রে সহায়তা ও অনলাইনে ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ই কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং এবং আইটিভিত্তিক অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার একটি ফোকাস এই নীতিমালায় আছে যা এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। এই নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ছয় ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা হলো—নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সহজ শর্তে ঋণ, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুদ্ধকরণ এবং কাজের জন্য বাজার সংযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করা। এছাড়া, এসএমই তথ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই নীতিমালার আলোকে উদ্যোক্তারা সহায়তা পেলে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমইর অবদান ৩২ শতাংশ করতে হবে। যা বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে অসম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান জানান, ২০ হাজার একর জমিতে পঞ্চাশের বেশি শিল্প পার্ক স্থাপন করবে বিসিক। একই সঙ্গে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করাসহ শিল্প প্লট বরাদ্দ এবং সহজ শর্ত ও সহনীয় সুদে ঋণ প্রদানও করা হবে বলেও জানান তিনি।
