জয়ে বিপিএল শুরু চট্টগ্রামের
স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফর বিবর্ণ ছিল দুজনেরই। চেনা কন্ডিশনে ফিরেই মোহাম্মদ মিঠুন, ইমরুল কায়েসের ব্যাটে ফিরল রানের ছন্দ। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন দুজনই। কিন্তু ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসও খেলে ম্যাচ শেষে পরাজিত শিবিরের প্রতিনিধি মিঠুন। ইমরুলের সঙ্গে চ্যাডউইক ওয়ালটনের ঝড়ো ইনিংসের কবলে পড়ে বিফলে গেছে সিলেট থান্ডারের হয়ে মিঠুনের প্রচেষ্টা। ইমরুল-ওয়ালটনের ব্যাটে জয় দিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল সিলেটকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৬২ রান তুলেছে চট্টগ্রাম। জবাবে ৫ উইকেটে ১৬৩ রান তুলে এক ওভার আগেই জয় নিশ্চিত করেছে সিলেট। ৬১ রান করে ইমরুল ম্যাচ সেরা হন।
দর্শক খরাকে সঙ্গী করেই গতকাল শুরু হয়েছে বিপিএল। টসজয়ী চট্টগ্রাম শিবিরে ছিল নাটকীয়তা। ইনজুরির কারণে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পায়নি দল। মঙ্গলবার পর্যন্ত জানা গিয়েছিল দুই ম্যাচের জন্য ইমরুলই দলটির অধিনায়ক। রাতের আধারে বদলে গেল সেই সিদ্ধান্ত। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে গতকাল চট্টগ্রামের হয়ে টস করেন ক্যারিবিয়ান রায়াদ এমরিট!
বড়ো চমক দেখিয়েছেন সিলেটের ক্যারিবিয়ান পেসার ক্রিসমার সান্তোকি। বাঁ-হাতি এই পেসার গতকাল বিশাল নো বল, ওয়াইড বল করেছেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই তৃতীয় বলটি ওয়াইড, পঞ্চম বলটি নো করেছেন। এবং তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য রকম ছিল। ওয়াইড ছিল উইকেটের বাইরে, নো বলের সময় তার পা ছিল দাগের প্রায় দুই হাত বাইরে। যা চূড়ান্ত সন্দেহজনক বোলিং। স্পট ফিক্সিং করছেন কি না সান্তোকি, এমন কথাও রটেছিল প্রেসবক্সে। যদিও ম্যাচ শেষে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি সিলেটের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ১০-১৫ রান কম করার আফসোস ঝরেছে মোসাদ্দেকের কণ্ঠে। যার জন্যই ম্যাচটা হেরেছে সিলেট। পরে ইমরুলও জানালেন, উইকেটটা ছিল ১৮০ রানের। ভালো উইকেট ছিল।
টসে হেরে ব্যাট করা সিলেটকে টেনেছেন মূলত মিঠুন। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন জনসন চার্লস ও মোসাদ্দেক। দ্বিতীয় উইকেটে চার্লসের সঙ্গে ৪৬, চতুর্থ উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েন মিঠুন। চার্লস ৩৫, মোসাদ্দেক ২৯ রান করেন। একপ্রান্ত আগলে মিঠুন হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের (৪ চার, ৫ ছয়) ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। চট্টগ্রামের রুবেল ২টি, এমরিট-নাসুম ১টি করে উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চট্টগ্রামের। আভিস্কা ফার্নান্দো ৩৩ রান করলেও ৬৪ রানে চার উইকেট হারায় দলটি। জুনায়েদ (৪), নাসির (০), রায়ান বার্ল (৩) দ্রুত ফিরেন। পঞ্চম উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন ইমরুল-ওয়ালটন। চার নম্বরে নামা ইমরুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। দলকে জয় থেকে ১৩ রান দূরে রেখে আউট হন তিনি। ৩৮ বলে ৬১ রান (২ চার, ৫ ছয়) করেন ইমরুল। ৩০ বলে ৪৯ রান (৩ চার, ২ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন ওয়ালটন। নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত ৫ রান করেন। সিলেটের নাজমুল অপু ২টি, সান্তোকি-এবাদত-মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট থান্ডার : ২০ ওভারে ১৬২/৪
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১৯ ওভারে ১৬৩/৫
ফলাফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : ইমরুল কায়েস (চট্টগ্রাম)
