শ্রেণিকক্ষ সংকটে অফিস কক্ষেই পাঠদান!

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৮

চরহোসনাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

স্কুলটিতে একটিমাত্র ভবন আছে, শ্রেণিকক্ষ দুটি। ফাঁকা কক্ষ না থাকায় ক্লাস চলছে অফিস কক্ষেই। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পাঠদান চলছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের ১১৫ নম্বর পশ্চিম চরহোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে।

জানা গেছে, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের ১১৫ নম্বর পশ্চিম চরহোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি আধাপাকা টিনশেড ঘরে পাঠদান পরিচালনা হয়ে আসছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রথম শিফটে প্রাক থেকে দ্বিতীয় ও দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালিত হয় বিদ্যালয়টিতে। সরকারিকরণের ছয় বছর পার হলেও নতুন ভবন তৈরিতে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্লাসের সময়ই অফিসে শিক্ষকদের মধ্যে কথোপকথন হয়। আবার কোনো ছাত্রের অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে আসলে তাদের আলোচনাও ঐ ক্লাসেই হয়। ফলে মনোনিবেশ ব্যাহত হয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, অফিসেই শিক্ষকরা পাঠদান করেন, তাই সমস্যা হয়। কক্ষ ছোটো হওয়ায় বসতেও সমস্যা হয়। আর বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীরা নতুন একটি ভবনের দাবি জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক আবু নাসের খান বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার মানের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ভবন না থাকায় পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। আমি নিজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এক বছর আগে লিখিত ও একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।