১৩ ডিসেম্বর ভারতের কর্নাটকের সুলভাদিতে কিচ্চাগুট্টি মারাম্মা মন্দিরে গোপুরার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সে প্রসাদ খেয়ে অসহ্য পেট ব্যথার সঙ্গে বমি শুরু হয় অসংখ্য মানুষের। মৃত্যু হয় ১৪ জনের। তবে সিসিটিভি না থাকায় মন্দিরের রান্নাঘরে সেদিন কীভাবে কী ঘটেছিল সেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি তদন্তকারীরা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্নাটক সরকার সোমবার ঘোষণা করেছে এবার থেকে রাজ্যের প্রত্যেক মন্দিরকে প্রসাদ বিতরণের আগে আগাম অনুমতি নিতে হবে। মন্দিরগুলোর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে রান্নাঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক।
সোমবার মুজরাই দফতর থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। বলা হয়, ভক্তদের প্রসাদ দেওয়ার আগে সেই প্রসাদ খেয়ে দেখবেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। মুজরাই দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রত্যেক বেসরকারি মন্দিরকে মুজরাই দফতরের অধীনে আনা যেহেতু সম্ভব নয়, তাই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মন্দিরের রান্নাঘরে কে কখন ঢুকছেন এবং কারা রান্নার কাজে সাহায্য করছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম লিখে রাখতে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ তিন তালাক দিলে তিন বছরের জেল
কর্নাটকের ওই ঘটনার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভক্তদের খাবারে কীটনাশক মেশানো হয়েছিল। দক্ষিণ রেঞ্জের আইজিপি শারথ চন্দ্র জানিয়েছেন খাবারের মধ্যে মোনোক্রোটোফোস ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বিষ ত্বকে লাগলেও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সেখানে তা খাবারে মেশানো হয়েছিল।
জড়িত অভিযোগে এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান মন্দিরের পুরোহিতদের মধ্যে বিবাদের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চামারাজানগরের প্রত্যেক আইনজীবী একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই সাত জনের হয়ে কেউ মামলা লড়বেন না।
ইত্তেফাক/টিএস
