সব খাতে নয়, কেবল শিল্প ঋণে এক অঙ্কের সুদ কার্যকর করা হবে। বিশেষ করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পুরোনো কারখানা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে মেয়াদি ঋণের প্রয়োজন সেই ঋণের সুদের হার হবে এক অঙ্কে বা ১০ শতাংশের কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার কমানো সংক্রান্ত কমিটি এ সুপারিশ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ প্রতিবেদন পেশ করবেন কমিটির সদস্যরা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, শুধু শিল্প ঋণে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের বিষয়ে শিগিগরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ এ সারওয়ার ও এনআরবি ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন। এর আগে ঐদিন সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ঋণের সুদ এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও আমলে নিচ্ছে না বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। সুদের হার কমানোর শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার থেকে পাঁচ ধরনের বিশেষ সুবিধা নিয়েছে ব্যাংকগুলো। এর পরও ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে না নামিয়ে সুদ নিচ্ছে ইচ্ছামতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে বেসরকারি ৪১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র তিনটি ব্যাংক এক অঙ্কের ঋণের সুদহার কার্যকর করেছে। বাকি ৩৭টি ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। তবে গত বছরেই সরকারি খাতের আটটি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছে।
