কপিলা ও কুসুম ভিন্ন পরিচয়ের দুই অভিন্ন নারী

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৫

মানবিক বাস্তববাদের এক সফল শিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯ মে ১৯০৮—৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬) ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক। ১৯২৮ সালে ‘অতসী মামী’ গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ। বিশ শতকের তিরিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ-শরত্চন্দ্রধারার বিরোধিতা করে যে কল্লোল গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে, সেই সময়ের লেখক হলেও বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বাক্ষর রাখেন।

মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড (১৮৫৬—১৯৩৯), অ্যাডলার, (Alfred Adler, ১৮৭০—১৯৩৭) প্রমুখের তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষিত হন। মানুষের অন্তর্জীবন ও মনোলোক বিশ্লেষণ এবং অবচেতন মনের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তাঁর ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ এবং ‘পদ্মানদীর মাঝি’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। বাংলাদেশের গ্রাম, গ্রামীণ জনজীবন এবং প্রকৃতি ও মানুষ, বলা যায় প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রথমবারের মতো সাহিত্যে প্রকাশের অবকাশ পায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে। অপরাপর রচনাগুলোর মতো তাঁর প্রধান দুটি উপন্যাসেও সে বাস্তবতাকে তুলে এনেছেন—যে বাস্তবতার তিনি দর্শক, যার অভিজ্ঞতা তাঁর অনুভব-অনুভূতির অঙ্গ সে সবকেই তিনি চিত্রায়িত করেছেন তাঁর বিচিত্র সাহিত্যকর্মে। আদর্শ সৃষ্টির চেষ্টা তিনি কখনো করেননি। সর্বপ্রকার মানব অভিজ্ঞতাই তাঁর সাহিত্যের বিষয়বস্তু, ভালোমন্দ মানিকের বিচার্য নয়। তিনি মনে করতেন, সব রকম মহত্ শিল্পবোধ ও তার প্রকাশ এক অব্যক্ত ও দুঃসহ যন্ত্রণারই ফলশ্রুতি। এ যন্ত্রণার তুলনা চলে শুধু জননীর প্রসববেদনার সঙ্গেই। তাঁর ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসের দুই চরিত্র হেরম্ব আর মালতী বৌদি। তাদের কথোপকথনের অংশবিশেষ এরকম :

 

মালতী জিজ্ঞাসা করছে,

‘প্রসব বেদনা কেমন জানো?

হেরম্ব জোর দিয়ে বলল :জানি।

:জানো! পাগল নাকি, তুমি কি করে জানবে?

:আমি এককালে কবিতা লিখতাম যে মালতী বৌদি।’

বস্তুত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য এরকম এক অপূর্ব ও তীব্র যন্ত্রণারই ফল। উপন্যাসগুলোতে আগাগোড়া ফল্গুধারার মতো বয়ে চলা এ যন্ত্রণা থেকে না কুসুম না কপিলা কেউ মুক্ত হতে পারেনি। প্রায় বহিঃপ্রকাশহীন এ যন্ত্রণার উদাহরণ সমগ্র বাংলা সাহিত্যে বিরল।

প্রেমকে কেন্দ্র করে, বিশেষত সামাজিক-সাংস্কৃতিক গন্ডির বাইরে সহজাত মানবিক চাহিদার দ্বন্দ্বে যে মৌল সমস্যার উদ্ভব, তা গ্রামের প্রায়ান্ধকার বিবর্ণ মেঠোপথের মতো বা জলাঙ্গীর জলধারার মতো কমবেশি দুটো উপন্যাসেই প্রবহমান, ‘যে স্রোত এদেশের ভূখণ্ডজুড়ে খাল-নদী-নালার আঁকাবাঁকা বিসর্পিলতায় আশ্রিত যুগ যুগ ধরে।’

পদ্মাপাড়ের ধীবরপল্লির এক অনুপম চালচিত্র বিধৃত হয়েছে পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে। সে উপন্যাসের নায়িকা কপিলা। সাতটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত ‘পদ্মানদীর মাঝি’র চতুর্থ পরিচ্ছেদে আবির্ভূত কপিলার সরব উপস্থিতি উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত। কুবের মাঝির স্ত্রী মালার ছোট বোন কপিলা। স্বামী শ্যামদাসের সঙ্গে কলহ করে সে বাপের বাড়ি চলে আসে এবং তারপর ভগ্নিপতি কুবেরের বাড়ি। এই সরল ও সাধারণ সামাজিক পরিচয়ে উপন্যাসে অনুপ্রবিষ্ট কপিলা ক্রমে ক্রমে কুবেরের জীবনে অনুপ্রবেশ করে এবং শেষ পর্যায়ে ভগ্নিপতির সঙ্গে সে অনিশ্চিত জীবনের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে ময়না দ্বীপে যাত্রা করে।

অন্যদিকে কুসুম গাওদিয়া গ্রামের গয়লাবাড়ির বউ। একটু অদ্ভুত পাগলাটে স্বভাবের কুসুম, গ্রাম্য চতুরতা আর সারল্যের এক বিস্ময়কর সংমিশ্রণ। কুসম চরিত্রটি শুধু এ উপন্যাসে বিশেষত্বের দাবিদারই নয় বরং সমগ্র মানিকসাহিত্যের অন্যতম এবং অনবদ্য চরিত্র।

গ্রামীণ অভিজাত পিতা অনন্তবাবুর তিন কন্যার ছোট জন কুসুম। গাওদিয়ার হারানের পুত্র পরাণের গৃহে সে মানিতা বধূ। কিন্তু এই কুসুম গাওদিয়ার শশী ডাক্তারকে ঘিরে গড়তে চায় ভালোবাসার এক ভিন্ন ভুবন—যা শেষ পর্যন্ত অবয়ব লাভ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ভগ্নমনোরথ, নিঃস্ব, রিক্ত কুসুম দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেয়। আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হতে পারে যে, কপিলা সফল আর কুসুম ব্যর্থ। কিন্তু এই আপাতসাফল্য বা ব্যর্থতার চেয়েও উপন্যাসদ্বয়ে বর্ণিত তাদের যাপিত জীবনের ব্যঞ্জনা অনেক বিস্তৃত, গভীর ও তাত্পর্যময়।

গাওদিয়ার কুসুম সামাজিক পরিচয়ের বাইরে দ্বিতীয় অস্তিত্ব গড়ে তুলেছে তার স্বামীগৃহের পার্শ্ববর্তী শশী ডাক্তারকে ঘিরে। শশীকে কুসুম পছন্দ করে, বলা যায় ভালোবাসে। মাকড়সার মতো নিপুণ অধ্যবসায়ে দিনের পর দিন সে তার দ্বিতীয় অস্তিত্বের অর্থাত্ শশীর প্রেমিকার জালটি বুনে যায়। তার অহেতুক ঈর্ষায়, কিশোরী ননদ মতির সাথে কলহে পরস্ফুিট দক্ষতায় কিংবা শশীর সাথে উদ্দেশ্যমূলক সংঘর্ষে মনের গোপন স্তরে গ্রাম্যতার প্রকাশ যতখানি ঘটেছে তার চেয়ে বেশি ধরা পড়েছে তার মানস জটিলতার প্রতিবিম্ব। আবার এই কুসুমই যখন ‘উপযাচিকা-অভিসারিকা’র মতো হাত ভাঙার ছল করে কিংবা পেটে ব্যথার আতিশয্য এনে শশীকে ভোলাতে চায় : মতির নাম করে একরাশ মিছে কথা, শশী বুঝে ফেলবে জেনেও, ইচ্ছা করেই বলতে থাকে এবং তারপর অন্ধকারে বেগুন খেতে দাঁড়িয়ে (গাছের মাথা আলো করে চাঁদের আভাস দেখা গেলে) দেহে-মনে লাজরক্ত কিশোরীর চঞ্চলতা অনুভব করে—তখন তাকে প্রেমে অনভিজ্ঞ, সরল, গ্রামীণ কিশোরী রূপেই যেন আমরা চিনে নিই।

অথচ প্রয়োজনে কুসুম বাড়ির সবাইকে, এমনকি ‘ছোটবাবু’কেও হুকুম করতে জানে, শিক্ষিত অভিজ্ঞ শশীর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সরল কিন্তু বলিষ্ঠ যুক্তির চাতুর্যে পাল্টে দিতে পারে কিংবা প্রতিবেশীদের চোখ এড়িয়ে ছোটবাবুর সাথে দেখা দিয়ে প্রতীকী ব্যঞ্জনার রসাভাস ঘটাতে পারে। এই কুসুমের মধ্যে আমরা এক অনুপম ব্যক্তিত্ব ও পরিণত মন প্রেমিকার সন্ধান পাই : ছলাকলায় যে নিপুণ, রাগ-অনুরাগে মেশা প্রতিটি কাজে যার মানসিকতা কখনো প্রচ্ছন্ন, কখনো স্বচ্ছ। বিচিত্র মানবী কুসুম সারল্য ও জটিলতার, বৈপরিত্যময় মানসিকতার এক অদ্ভুত সমন্বয়। তার মুখেই মানায় চাতুর্যময় এমন তীক্ষ সংলাপের ব্যঞ্জনা :‘ইচ্ছা করেই মাড়িয়ে দিয়েছি ছোটবাবু। চারার জন্য এত মায়া কেন? দরকার আছে, তবু ডাকতে আসতে হবে, রাগ হয় না মানুষের?’ এই হলো পুতুলনাচের কুসুম।

অন্যদিকে, কপিলা তুলনামূলক অন্ত্যজ শ্রেণির মানবী, তার মানসিক দ্বন্দ্ব অপেক্ষাকৃত কম। স্বামীপ্রেম (এমনকি সংসার থেকেও খানিকটা) বঞ্চিত কপিলা ভগ্নিপতি কুবেরের নিস্তরঙ্গ জীবনে প্রমত্তা পদ্মার দুর্বির্নীত ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে। দ্বিধান্বিত, ন্যূব্জপ্রায় কুবের প্রথমত বুঝতেই পারে না ‘কপিলার মনে কি আছে’, দুঃখ-দারিদ্র্য, হতাশায় পূর্ণ জন্মান্তরের পাঁকে জড়ানো কুবের, যার এমনকি স্ত্রীটিও পঙ্গু, চপল উদ্দামতায় আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর কপিলাকে আত্মস্থ করতে কিছুটা সময় নেয় এবং অনতিকাল পরেই তার উপলব্ধি হয় যে, ‘বাঁশের কঞ্চির মত কপিলা’—তাকে দিতে পারে অনেক কিছু।

‘আর কিছু চায় না কুবের কপিলার কাছে, গোপনে শুধু দুটো সুখ-দুঃখের কথা বলিবে। একটু রহস্য করিবে কপিলার সঙ্গে। বাঁশের কঞ্চির মত অবাধ্য ভঙ্গিতে সোজা দাঁড়াইয়া কপিলা টিটকারি দিবে তাকে, ধরিয়া নোয়াইয়া দিতে গেলে বসিয়া পড়িবে কাদায়, চাপা হাসিতে নির্জন নদী তীরে তুলিয়া দিবে রোমাঞ্চ। আর কিছুই চায় না কুবের।’

কপিলার কাছে এই চাওয়া পর্যন্ত আসতে কুবেরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। কারণ সামাজিক মানুষ হিসেবে সে দরিদ্র, ছাপোষা জেলে। গরিবের মধ্যে সে গরিব, ছোটলোকের মধ্যে সে আরো বেশি ছোটলোক সুতরাং সে নিরীহ, ভীতু এবং কিছুটা নির্বোধও। কিন্তু তা সত্ত্বেও কুবের একজন মানুষও বটে। সুযোগমতো দু-একটা মাছ সরানো কিংবা হোসেন মিয়ার টাকার থলে হাতানো এসব কাজগুলো (খানিকটা দ্বিধা সত্ত্বেও) সে করে ফেলে। পদ্মাপাড়ের নায়িকা গাওদিয়ার কুসুম নয় সে (কপিলা) অসংকোচে বলে ফেলে, ‘আমারে নিবা মাঝি লগে?’ নানা টানাপোড়েন আর ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে এই একটি বাক্য কুবেরের মনে ‘সকাতর মিনতিঘনিষ্ঠ’ গানের ধুয়ার মতো বাজতে থাকে।

চপলা এই মেয়েটি শুধু যে যেতেই চায় তা নয়, সমাজ-সংসার কিংবা স্বামী এসব নৈমিত্তিক সংস্কার তার মনেও ক্রিয়াশীল ছিল। বিষণ্ন কপিলা যখন বলে—‘আমারে ভুইলো মাঝি, গাঙের জলে নাও ভাসাইয়া দূরদ্যাশে যাইও মাঝি, ভুইলো আমারে’ অথবা ‘অন্ধকার রাতে চলতিপথে খানিকটা ঘনিষ্ঠ হয়ে আসা কুবের মাঝিকে ছাড়তে বলে, কারণ কপিলার মন খারাপ, কেন মন খারাপ—না, ‘সোয়ামীরে মনে পড়ে’। এ হেন কপিলা রাত্রিবেলা কুবেরের পিছু নিয়ে নদীতীরে আসে এবং মায়াবী আকর্ষণে কুবেরকে উদ্বেল করে তোলে, গোপীর ভাঙা হাড়ের চিকিত্সার্থে আমিন বাড়ির হাসপাতালে তারা একত্রে রাত কাটায়, এসব বৈপরীত্য এবং খানিকটা দুর্বোধ্যতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কপিলা ময়না দ্বীপের যাত্রী কুবেরের সঙ্গী হয়।

গাওদিয়া আর কেতুপুরের গ্রাম্য বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য সামান্য, যদিও কেতুপুরের তুলনায় গাওদিয়া অনেক সম্পন্ন গ্রাম। গাওদিয়ার কুসুমের পিতা অবস্থাপন্ন মানুষ। তার স্বামীও নিতান্ত অসচ্ছল নয়। আর কুসুমের ভালোবাসায় সিক্ত শশী বলতে গেলে উচ্চবিত্ত এবং আধুনিক সুশিক্ষিত লোক।

পরানের গৃহে কুসুমের মর্যাদা, স্বস্তি সবই ছিল, তবুও তার উপবাসী মন থিতু হতে চেয়েছে উন্নত রুচি ও সংস্কৃতির শশীর জীবনে।

পুতুলনাচে সর্বশেষে শশী যখন কুসুমকে নিতে চায় তখন সহসা মর্যাদাময়ী, রাশভারী কুসুমের গভীর চৈতন্যের সমৃদ্ধ প্রতিফলনে শশীর সব আত্মপ্রত্যয়, উন্নাসিক আভিজাত্য এবং উচ্চমন্যতা হঠাত্ যেন তুচ্ছ হয়ে যায়। নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে শশী ব্যক্তিত্বময়ী কুসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

রবাহূত কপিলা কুবেরের ভীরু অনিচ্ছা অগ্রাহ্য করে বসে পড়তে যখন দ্বিধা করে না, তখন তালপুকুর পাড়ে শেষ সাক্ষাতে শশীর আহ্বানের জবাবে কুসুম বলছে, ‘তা যেতাম ছোটবাবু, স্পষ্ট করে ডাকা দূরে থাক, ইশারা করে ডাকলেও ছুটে যেতাম, চিরদিন কি একরকম যায়? মানুষ কি লোহার গড়া যে চিরকাল সে একরকম থাকবে, বদলাবে না? কাকে ডাকছেন ছোটবাবু, কে যাবে আপনার সঙ্গে? কুসুম কি বেঁচে আছে? সে মরে গেছে।’

তাই প্রায় ন’বছরের ভালোবাসার মৃত্যু ঘটিয়ে রিক্ত-নিঃস্ব কুসুম মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে গিয়ে নির্লিপ্ত দর্শকের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় নিশ্চিত কিছু ইতিবাচক উপকরণ সংযোজন করে যায়। আর এই প্রয়োজনের পথ বেয়ে পুতুলনাচের (মৃত) কুসুম পদ্মাতীরের এক গ্রামান্তে আবির্ভূত হয় কপিলা নামে। কুসুমের চেয়ে অধিকতর সাহসী, অনেক ঋজু এবং দ্বিধাহীন। ভিন্ন পরিচয় ও ক্ষেত্রের দুই নায়িকা দিনশেষে যেন পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে অভিন্ন দ্যোতনায় ধরা দেয়। তাই গাওদিয়া ছাড়লেও পাঠকের মন থেকে কুসুম ছাড়া পায় না। চপলা কপিলার সঙ্গে অনুপম ব্যক্তিত্বের পরিণত প্রেমিকা কুসুম সতত সহযাত্রী থাকে পাঠকহূদয়ে। বিরামহীন এ যাত্রা,অনিঃশেষ এ বন্ধন।