এ সময়ের কিশোর-কিশোরীদের জন্য লেখা গল্প

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৬

অচেনা নগরে অর্বাচীন কিশোর

নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

প্রচ্ছদ :সোহেল আশরাফ

প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ

এ এক অমল-ধবল কিশোরের গল্প, যে গল্পে রাফিদ নামের এক স্কুল-বালকের মনোজগত্ মূর্ত হয়ে আছে অতীত স্মৃতি, আর বর্তমান অচেনা জগত্ ঘিরে। সন্তানের উন্নত শিক্ষার জন্য ব্যাকুল এক মায়ের ইচ্ছায় রাফিদ নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ওর পরিবার ঢাকা শহরে নিয়ে এসে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। কিন্তু অচেনা মহানগরের বিরুদ্ধ পরিবেশ, নতুন স্কুলের সহপাঠীদের নানারকম বিব্রতকর বিদ্রূপ আর উপদ্রব রাফিদকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ধরে। নির্বান্ধব নতুন জীবন ওর কাছে দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। তখন বারান্দায় ফেলেরাখা সাইকেলটাকে ওর কাছে বন্ধু বলে মনে হয়। ঢাকায় আসার পর রাফিদ আর সাইকেলটায় চড়তে পারে না। কিন্তু এটা ওর নির্বাক জীবনে একমাত্র কাছের বন্ধু। সাইকেলটার নিশ্চলতা আর ওর নিঃসঙ্গতা অভিন্ন হয়ে গেলে সে এর বেল বাজিয়ে আর্তনাদে ফেটে পড়ে, বন্দিত্ব থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় অস্তিত্বের জানান দিতে চায়। কিন্তু প্রতিবেশিনী সেই সামান্য টুংটাং শব্দের গলা চেপে ধরতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। রাফিদের অচেনা অন্ধকার শহরে এক টুকরো আলো পাশের বাসার কিশোরী। সে ওরই মতো কিংবা এ শহরের সকল শিশু-কিশোর-কিশোরীর মতোই একা। সে আসামান্য দৃঢ়তায় সাইকেলের ঘণ্টা বাজাতে বলে। ভেতরের অবদমিত চাপ নিঃসরণের পথ খোঁজে সে সাইকেলের ঘণ্টা বাজানোর মধ্যদিয়ে। সাইকেলটা আসলে রাফিদেরই আরেক সত্তা। কিছুদিনের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর স্পর্শহীন সম্পর্কের জগতে ঢুকে সে নিঃসঙ্গতা থেকে আপাতমুক্তি লাভ করে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে স্কুলের পরীক্ষার ফলাফলে, যা ওর মাকে হতাশ করে।

রাফিদ কিংবা এ শহরের কিশোর-কিশোরীরা কি বন্দি হয়েই থাকবে? না, নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর রাফিদদের মুক্তির পথ খুলে দিয়েছেন অনুপম দক্ষতায়। তিনি নিয়ে যান বইয়ের দোকানে, জাদুঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা ইতিহাস দেখিয়ে আনেন কিংবা দূরগ্রামের উদার প্রকৃতি দেখানোর পাশপাশি মুক্তিযুদ্ধের গণকবরের সঙ্গে পরিচিতি ঘটিয়ে আমাদের এই প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আজানা ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। গল্পের মধ্য দিয়ে তাদের জন্য এক নতুন চিন্তার জগত্ উন্মোচন করেন। নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর মনোমুগ্ধকর ভঙ্গিতে নানা অনুষঙ্গের মধ্যদিয়ে আমাদের সময়কালকে ‘অচেনা নগরে অর্বাচীন কিশোর’ উপন্যাসে তুলে আনেন।

ছোট ছোট সরল বাক্যে, তাঁর নিজস্ব কৌশলে নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর এই প্রথম কিশোর-কিশোরীদের জন্য উপন্যাস লিখলেন। কিন্তু এটা আদরনীয় হয়ে উঠবে সকল ধরনের পাঠকের কাছে।