মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের
সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ দিদারুল ইসলাম। তিনি ৩৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ৮ম স্থান অধিকার
করেছেন। তার গল্প লিখেছেন— এম এম মুজাহিদউদ্দীন
যাত্রা যখন শুরু
পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছেন। ইসলামি একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৩১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৩০ পেয়ে কলেজ জীবনের ইতি ঘটান। প্রথমসারির শিক্ষার্থী না হলেও অন্য দশজন শিক্ষার্থীর মত স্বপ্ন দেখেন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়বেন। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। অবশেষে ভর্তির সুযোগ পান মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়র, শরত্ চন্দ্র, কাজী নজরুলের রচনাবলি পড়েছেন।
প্রস্তুতি নিলেন যেভাবে
বিসিএসের সিলেবাস অনুসারে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তেন। হ্যান্ডনোট তৈরি করে তা অনুসরণ করতেন। বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাসভিত্তিক বই, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই বেশি বেশি পড়া হতো। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তার পরেরদিনের জন্য একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করতেন আর তা বাস্তবায়ন করতেন। পত্রিকা পড়তাম। ইংরেজি ও গণিতের প্রতি বাড়তি সময় দিতেন। দিদার বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার বাবা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন এগুলো বিসিএস পরীক্ষার ভাইভায় কাজে দিয়েছে।’
বিসিএস যাত্রায় সফল হতে
লক্ষ্য স্থির রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দিদার। যারা বিসিএস পরীক্ষা দিয়েও সাফল্যের মুখ দেখছে না তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কখনো হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের দুর্বল ও সবল দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতিকালীন পড়ালেখা ছাড়া অন্য কোনো দিকে মন দেয়া যাবে না। মানুষের মেধা, মনন ও পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না। একদিন না একদিন তা সাফল্যের মুখ দেখবেই। ’
