নাইজারে মালি সীমান্তের কাছে একটি সামরিক ক্যাম্পে জঙ্গিদের হামলায় ৭৩ সৈন্য নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এ খবর জানিয়েছে। এ হামলাকে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা বলে অভিহিত করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল বৌবকর হাসান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইনাতেসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে কয়েকশত জঙ্গি হামলা চালায়, এরপর তিন ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলে। ‘লড়াইটি অত্যন্ত সহিংস ছিল। শত্রুরা কামিকাজে যান ব্যবহারের পাশাপাশি মর্টারও ব্যবহার করেছে,’ বলেন তিনি। এ হামলায় আরো ১২ সৈন্য আহত হয়েছে এবং অজ্ঞাতসংখ্যক সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। লড়াইয়ে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ জঙ্গিও নিহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ৩০ জন সৈন্য এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর আগে মে ও জুলাই মাসে একই এলাকায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পশ্চিম আফ্রিকা শাখার জঙ্গিদের দুটি হামলায় নাইজারের প্রায় ৫০ জন সৈন্য নিহত হয়েছিল।
এ ঘটনার সময় নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহামাদু ইউসুফু মিশর সফরে ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফিরে যান বলে এক টুইটে জানিয়েছে তার দপ্তর। রাজধানী নিয়ামে থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে নাইজার নদী তীরের ইনাতেস প্রধানত পশুপালকদের শহর। চলতি বছর এ শহরটিতে ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে আর বছরের শেষ দিকে এ হামলাটি হলো। জুলাই থেকে এ এলাকাটির কয়েকশত বাসিন্দা রাজধানী নিয়ামেতে বা নিকটবর্তী শহরগুলোতে পালিয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু অরক্ষিত অবস্থায় রেখে জান নিয়ে পালায় তারা।
জঙ্গিদের প্রতিরোধ করার জন্য আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে হাজার হাজার আঞ্চলিক ও বিদেশি সেনাদের সমাবেশ ঘটলেও চলতি বছর সেখানে জঙ্গিদের তত্পরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে তারা। এ অঞ্চলের জঙ্গিদের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদার সম্পর্ক আছে।
