সুমাইয়া আফরিন অহনার রেডিও শুনতে ভালো লাগত। কথাবন্ধুদের কথা খুব টানত। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেন। তবে একদিন নিজেই আরজে বা কথাবন্ধু হয়ে উঠবেন, তা কখনো ভাবেননি। একবার ক্যাম্পাসে একটি শর্টফিল্মের শুটিং করছিলেন অহনা। সেখানে ক্যাম্পাসের এক আপু বলেছিলেন, ‘তুই সুন্দর করে কথা বলিস, তোর আরজে হওয়া উচিত তোর। নতুন একটা রেডিও স্টেশন আসছে। যোগাযোগ করিস।’ এরপর অহনার আবেদন করা। ছয় ধাপে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজের সুযোগও পান। সেই থেকে শুরু। তারপর পাঁচ বছর ধরে কাজ করছেন কথাবন্ধু হিসেবে। পাশাপাশি টেলিভিশন উপস্থাপনা, মডেলিংও করছেন এখন। ‘একজন আরজে হিসেবে ভালো বা মন্দ মিলে অনেক ধরনের অনুভূতি কাজ করে। তবে মানুষ হিসেবে আমি যথেষ্ট ইতিবাচক। তাই ভালো অনুভূতিটাই বলতে চাই। সবচেয়ে সুখের অনুভূতি হচ্ছে, না চাইতেই অনেক ভালোবাসা পাওয়া যায় সবার কাছ থেকে। আর এই ভালোবাসাটা একদম নিঃস্বার্থ,’ এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন অহনা।
শুধু কথা বলে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে নেওয়া যায় বলে মনে করেন তিনি। অহনার ভাষায়, ‘কখনো দেখা হয়নি বা হবেও না এমন মানুষগুলোও তাদের সুখ-দুঃখগুলো অনায়াসে ভাগ করে নেন আমাদের সঙ্গে। কথাবন্ধুর সঙ্গে শ্রোতার সম্পর্কটা বেশ আবেগের, ভালোবাসার।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী অহনা বলেন, ‘বিপদে পড়ি অফিস ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালাতে গিয়ে। সব শিক্ষার্থীর মতো নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা দেওয়া কঠিন ছিল। তবু কষ্ট করে পড়াশোনা-কাজ একসঙ্গে চালিয়ে গেছি। কারণ বাবাকে কথা দিয়েছিলাম, যাই করি না কেন পড়াশোনার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেব না।’ ভাষা বিকৃতি নিয়ে জানতে চাইলে অহনা বলেন, ‘আরজেদের ভাষা বিকৃতি নিয়ে বড় বিতর্ক আছে। তবে নিজের জায়গা থেকে সবসময় চেষ্টা করি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে। বাংলা ভাষার অসম্মান হলে নিজেরই খারাপ লাগে।’
এই পেশা নিছক খ্যাতি পাওয়ার পেশা নয়, দাবি করে যারা কথাবন্ধু হতে চান তাদের জন্য অহনার পরামর্শ হচ্ছে, এখানে অসংখ্য মানুষ তাদের অনুভূতি আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে তাই নিজের মানসিক অবস্থা যাই থাকুক শ্রোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। উত্সবমুখর দিনগুলোতে পরিবারকে সময় না দিলেও অদেখা মানুষগুলোর সঙ্গে হাসিমুখ উত্সর্গ করতে হয়। এ বিষয়গুলো ভালোবাসা থেকেই আসে বলে জানান এ তরুণী।
অহনা বলেন, এ ধরনের পেশায় মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের গান ও সমসাময়িক সব বিষয়েই ধারণা থাকতে হয়। এজন্য গ্রুমিং খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অহনা মিডিয়ায় এসেছেন ভালোবাসার জায়গা থেকেই। তবে পড়াশোনার বিষয় যেহেতু বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা, তাই মিডিয়ায় কাজের পাশাপাশি করপোরেট জগতেও নিজের একটা জায়গা করে নিতে চান তিনি।
