শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০১৮

যুদ্ধের গল্প শোনাল শান্ত-মারিয়ামের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১৫

 

বিনম্র শ্রদ্ধা আর শোকগাথা স্মৃতি রোমন্থন ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর পালিত হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০১৮। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে ওইদিন সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে কোরআনখানি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যা ৬টায় বিয়াম মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্মিলনী, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ, বীর প্রতীক কবি কামাল চৌধুরী, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আহসানুল কবিরসহ শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজি মো. মফিজুর রহমান ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশর মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতীয় সেনাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান বক্তারা। সর্বশেষ শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি ও শান্ত-মারিয়াম একাডেমির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য, বিজয়ের প্রথম প্রহর ১৭ ডিসেম্বর ভোরে শত শত মুক্তিযোদ্ধারা বুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে যখন ঢাকায় ফিরছিলেন, তখন নৌকাডুবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্তর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুসহ মোট ১১ জন সহযোদ্ধা শহীদ হন। এই ঘটনা তার মনে গভীর রেখাপাত করে। তাই তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তার ১১ জন শহীদ সহযোদ্ধার স্মৃতির উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। একই সঙ্গে তাদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে আজিমপুর নতুন কবরস্থানে তাদের সমাধিতে নির্মাণ করেন ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ’। তিনি অসচ্ছল শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের নিয়মিত সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন। এই সকল কার্যক্রম কোনো ধরনের অনুদান ছাড়াই শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়।