মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। চতুর্থ দিন শুক্রবার পর্যন্ত দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অনশনস্থলে অসুস্থ শ্রমিকদের স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষে বর্তমানে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিলের তাঁত বিভাগের মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা শুক্রবার সকাল ১০টায় মিলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে খুলনা বিভাগীয় শ্রম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তার পরিবারের কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন। পরে তার মরদেহ পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
অনশনরত শ্রমিকরা বলেন, প্রতিশ্রুতি নয়, মজুরি কমিশন না নিয়ে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে উঠবো না।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আন্তরিক।
আরও পড়ুন: জমি নিয়ে বিরোধে গৃহবধূকে ছরিকাঘাতে হত্যা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি কমিশনের বিষয়ে আগামী ১৫ ডিসেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা হবে। সমাধান না হলে তিনি আগে যেমন শ্রমিকদের পাশে ছিলেন, এখনও থাকবেন। এ সময় মৃত শ্রমিকের পরিবারকে শ্রম দফতর থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।
উল্লেখ্য, ১০ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে।
ইত্তেফাক/এসি
