প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই উদ্দীপকের আলোকে লিখতে হবে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫২

পরামর্শ ও জীব বিজ্ঞান

নুসরাত জাহান, সহকারী শিক্ষক

বকশিরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা

বরিশাল

 

 

 

 

 

 

প্রিয় এসএসসি/ দাখিল পরীক্ষার্থীবৃন্দ,

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তোমাদের এসএসসি/দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে। সুতরাং তোমাদের পরীক্ষার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্তে খেলাধূলা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় । কেননা খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলে তোমার মন ভেঙে যাবে । তাই শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও । সময় করে খাও, ঘুমাও আর মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করো । বন্ধুরা, যেহেতু তোমাদের   বেশির ভাগ বিষয় সৃজনশীল, সেহেতু পাঠ্যবই মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। কারণ পাঠ্যবই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সুন্দর ও সাবলীলভাবে দিতে পারবে। বন্ধুরা, তোমরা জানো যে একটা সৃজনশীলে ৪টি প্রশ্ন থাকে (ক,খ,গ,ঘ)। আবার চারটি প্রশ্নে চারটি জ্ঞান, তিনটি অনুধাবন, দুইটি প্রয়োগ এবং একটি উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন থাকে ।

ক (জ্ঞানমুলক) প্রশ্নের উত্তর বই থেকে হুবহু থাকে, তাই বই থেকেই উত্তর লেখবে। খ (অনুধাবনমূলক) প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে জ্ঞানের উত্তর করবে এবং সেই জ্ঞানের আলোকে অনুধাবন এর উত্তর লেখবে । মনে রাখবে গ ও ঘ (প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা) প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই উদ্দীপকের আলোকে লিখতে হবে। তবে প্রয়োগ, উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নেও জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার স্তর অনুযায়ীই লিখবে । অবশ্য বিজ্ঞান বিষয়ে এই নিয়মের কিছুটা শিথীলতা রয়েছে । তুমি যদি প্রশ্ন  বোঝে জ্ঞান বের করে সঠিক উত্তর লিখতে পারো, তাহলেও চলবে । পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য ছোট্ট একটি  কৌশল অবলম্বন করা যায়।

যেমন : জ্ঞানমুলক প্রশ্নের জন্য (১-৩) লাইন অনুধাবনমুলক প্রশ্নের জন্য (৩-৫), প্রয়োগমূলক প্রশ্নের জন্য (৫-১০) লাইন, উচ্চতর দক্ষতার জন্য (১০-১৫) লাইন লিখলে ভালো হবে (অবশ্যই প্রশ্নের আলোকে) । সেক্ষেত্রে সময়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবে ।

বন্ধুরা, আজকে তোমাদের প্রস্তুতি সহায়তার জন্য জীববিজ্ঞান বিষয়ের একটি সৃজনশীল নমুনা প্রশ্নোত্তর দিলাম। তোমরা পরীক্ষার খাতায় উত্তর করার সময় এভাবে প্রয়োগ করলে আশা করছি ভালো নম্বর পাবে।

ক.জাতীয় ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

খ.দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝায়?

গ.চিত্র-১-এর জীবটির বৈশিষ্ট্যানুযায়ী  শ্রেণি বিন্যাসের কোন্ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়? ব্যাখ্যা

করো।

ঘ.চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর জীব দুটি একই সুপার কিংডমের হলে ও রাজ্য দুটি ভিন্ন থাকার যৌক্তিক কারণ বিশ্লেষণ করো।

ক.উত্তর :   জাতীয়ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হল Nymphaeanouchal

i খ.উত্তর :  দ্বিপদ নামকরণে (Binomial nomenclatu) একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। যেমন :মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homosapiens। এখানে Homo গণ নাম এবং sapiens প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটিপদ নিয়েগঠিত নামকেদ্বি পদনাম এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (Binomial nomenclatu)পদ্ধতি বলে।দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক ক্যারোলাসলিনিয়াস । তাঁর এই দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বিজ্ঞানের শাখায় নিঃসন্দেহে একটি চমত্কার উদ্ভাবন।

গ.উত্তর :    উদ্দীপকে চিত্র-১ এর জীব প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞানী আর,এইচ হুইটেকারওমারগুলি সজীব জগতকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন। যে সকল  বৈশিষ্ট্য বিচারকরে চিত্র -১এর জীবটিকে প্লান্টিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো-

c এটি সপুষ্পক উদ্ভিদ।

c এটি প্রকৃত নিউক্লিয়াস যুক্ত সালোক সংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।

cএদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।

cএই উদ্ভিদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।

cএদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস (Anisogamous) ।

c এটি আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রী জনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।

উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো রাজ্য- ৪ প্লান্টি এর  বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং চিত্র-১ এর জীবটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শ্রেণি বিন্যাসের রাজ্য-৪ অর্থাত্ প্লান্টিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

ঘ.উত্তর :চিত্র-১ও চিত্র-২-এর জীব দুটি সুপার কিংডম ২ এর অন্তর্ভুক্ত।

জীবের  বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণের মাধ্যমে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। দুটি বহুকোষীজীবের মধ্যে যেসব সাদৃশ্য রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এরা প্রকৃত কোষ (নিউক্লিয়াস সুগঠিত) বিশিষ্ট।

দুটি জীবের মধ্যে যেসব বৈসাদৃশ্য রয়েছে-

চিত্র-১

c এটি সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।

cউদ্ভিদটির কোষে জড় কোষ প্রাচীর,প্লাস্টিডও  কোষ গহবর বিদ্যমান।

cএটি আর্কিগোনিয়েটও সপুষ্পক উদ্ভিদ।

চিত্র-২

c এটি সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

c প্রাণীটির জড়কোষ প্রাচীর, প্লাস্টিডও কোষ গহবর নেই।

c এরা যৌন জননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। ভ্রুণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রুণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।

সুতরাং জীব দুটি একই সুপার কিংডমের অন্তর্ভূক্ত হলে ও বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের, বৈসাদৃশ্যের কারণে ভিন্ন রাজ্য গত করা হয়েছে।

অর্থাত্

চিত্র-১-এর উদ্ভিদ রাজ্য-৪ প্লান্টি এবং

চিত্র-২-এর প্রাণীটি রাজ্য-৫ অ্যানিম্যালিয়ায় অবস্থান যুক্তি সঙ্গত। আর বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তরের জন্য অবশ্যই বোর্ড বই মনোযোগ দিয়ে পড়বে ।