মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতাই বরিস জনসনের উত্থানের কারণ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩১

থেরেসা মে’কে সরিয়ে গত জুলাইয়ে বরিস জনসন যখন প্রথমবার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটে আসেন, তখন সমালোচকরা বলেছিলেন, দলের মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য তাকে এই দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত করেছে। এখন বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ভোটাররাও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক সমালোচক মনে করেছিলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার মতো যথেষ্ট দক্ষতা তার নেই। কিন্তু তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন জনসন।

বিভক্ত মতামত এবং মনোযোগ আকৃষ্টকারী বিতর্কের মধ্য দিয়ে নিজের পেশা জীবন গড়েছেন জনসন; প্রথমে একজন সাংবাদিক, পরে রাজনীতিবিদ হিসেবে। সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই বিতর্ক তৈরির প্রতি জনসনের আগ্রহের ব্যাপারটি পরিষ্কার হতে শুরু করে। টাইমস পত্রিকা থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়, কারণ তিনি একটি উদ্ধৃতি নিজে থেকে বানিয়ে দিয়েছিলেন। এর পরে তিনি রক্ষণশীল ঘরানার পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফের ব্রাসেলস সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার লেখার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি তার ক্ষুব্ধতার ব্যাপারটি নিহিত ছিল, যা তার পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জনসন নিজেকে ইউরোপের এক জন সমালোচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।

মজার ব্যাপার হলো, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের আগে ওই ব্যাপারে জনসনের অবস্থান খুব বেশি পরিষ্কার ছিল না। তিনি একটি সংবাদপত্র নিবন্ধে যুক্তি তুলে ধরেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া উচিত এবং আরেকটি খসড়া প্রস্তুত করে রেখেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ইউরোপ ছাড়ার পক্ষে অবস্থান নেন এবং তার অর্থ হলো দলের তত্কালীন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া। নির্বাচনে ইউরোপ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়ে এবং ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। তখন কনজারভেটিভ দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার একটা চেষ্টা করেন জনসন। কিন্তু থেরেসা মে বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হন। ভোটাভুটির আগেই অন্য সব প্রার্থীকে সরে যেতে হয়। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে জনসনের ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জনসন পরবর্তীকালে থেরেসা মের মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসেন এই দাবি করে যে, ব্রাসেলসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় মের আরো কঠোর ভূমিকা নেওয়া উচিত। দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বরিস জনসন কখনোই চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাকে নাকচ করেননি। তিনি বলেছেন, সাধারণ নির্বাচনে যদি কনজারভেটিভ পার্টি বিজয়ী হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারির মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করবে। ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনে জোরালো মতামত এবং মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো ক্ষমতা ভোটারদের হূদয় জয় করতে বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে। আর নিজের পুরো জীবনজুড়ে এই দুটি ক্ষেত্রেই অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন বরিস জনসন।