ঢাকা ও গাজীপুরসহ কয়েকটি জেলায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলার অভ্যন্তরের ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গাজীপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এবং স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করছে। এ অভিযানে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭৩টি ইটভাটার মধ্যে ৩২টি এবং জেলার ১৭৯টির মধ্যে ৪২টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে এক কোটি ৪৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ইটভাটার মৌসুমে এভাবে ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ায় ভাটার মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কখন আবার অভিযান চলে, এ চিন্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি ইটভাটায় নিয়োজিত শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৩টি এবং জেলার অভ্যন্তরে ১৭৯টি ইটভাটা রয়েছে। সিটির অভ্যন্তরে কোনো ইটভাটা না থাকার নিয়ম থাকলেও মালিকেরা নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে তাদের ইটভাটাগুলো চালু রেখেছেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট ঢাকা, গাজীপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিলে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয় যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে ইটভাটা মালিকদের। কারণ তারা ব্যাংক লোনসহ বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে ইটভাটাগুলো চালু রেখেছিল, আর এ অবস্থায় সেখানে অভিযান চালানোয় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আবার অভিযান শুরুর আশঙ্কায় অনেক মালিকই তাদের ইটভাটা বন্ধ রেখেছেন। শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ইটভাটা মালিকরা কয়েকবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাত্ করলেও তারা এ ব্যাপারে কোন সুরাহা বা প্রতিকার পাননি বলে জানা গেছে।
কড্ডা, বাইমাইল ও ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার কয়েকটি ইটভাটার মালিক জানিয়েছেন, ইটভাটার মৌসুমে এভাবে হঠাত্ করে অভিযান চালিয়ে ভাটা গুড়িয়ে দেওয়ায় তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই ব্যাংক লোন বা অন্য কারো কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ইটভাটাগুলো চালু করেছিলেন। তারা নিয়ম মেনে ইটভাটা চালু রাখার পক্ষপাতি কিন্তু সে জন্য সময়ের দরকার। এভাবে ইটভাটা গুড়িয়ে তছনছ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা সময় চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম সরকার জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, র্যাব, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যে কোন মূল্যে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করব।
