আদালতের পর্যবেক্ষণ দেখেই নতুন কৌশলি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:২৬

সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ দেখেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ হচ্ছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, পর্যবেক্ষণসহকারে জামিন আবেদনটি খারিজ করেছে আদালত। কি পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে সেটা আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি না পেলে জানা সম্ভব নয়। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর আদালতের পর্যবেক্ষণ দেখেই খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা আইনজীবীদের। খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনাকারী প্যানেলের একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ইত্তেফাককে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির সব পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। আইনগত আরো অনেক পথ আছে। আমরা প্যানেল আইনজীবীরা বসে দ্রুতই পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করব।

সূত্র জানায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা অনেকটাই হতাশ। এজন্য আইনজীবীরা আপিল বিভাগের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আদেশের অনুলিপি দেখে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হবে না কি হাইকোর্টে পুনরায় জামিন চাওয়া হবে সেটা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে চিন্তাভাবনা চলছে।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। ১০ মাস পর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও সাত বছরের দণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্টে জামিন চান তিনি। গত ৩১ জুলাই হাইকোর্ট ঐ জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে জামিন চান খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণসহকারে জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ড অ্যাডভান্সড চিকিত্সার যে সুপারিশ করেছেন তাতে খালেদা জিয়ার সম্মতি থাকলে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে (বিএসএমএমইউ) বলা হয়েছে।

এদিকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে হাইকোর্ট। ঐ সাজা বাতিলের আপিল ১০ মাস ধরে শুনানির অপেক্ষায় পড়ে আছে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায়। আইনজীবীদের কৌশল ছিল চ্যারিটেবল মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন জামিন পেলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামবেন তারা। কিন্তু চ্যারিটেবল মামলায় জামিন আবেদন খারিজে সেই সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে জানান আইনজীবীরা।