মানসিক চাপ থেকে মানসিক শৈথিল্য

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২৬

সেই বিষয়টি কী—যা আপনাকে সকাল থেকে সন্ধ্যার মাঝে অন্যরকম করে তোলে? আপনি রাতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকালবেলায় জেগে ওঠেন। এটা খানিকটা প্রভাব ফেলে। ধরুন, আপনি আজ রাতে ভালো করে ঘুমোননি, তাহলে এমন কি আপনার সকালবেলাটাও মনে হবে বিকাল চারটের মতো। সুতরাং যদি রাতে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম না পান, আপনার সকালটাও খারাপ যাবে। তাহলে এই ফারাকটা হওয়ার কারণ হলো বিশ্রামের মাত্রা।

সারাদিন ধরে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে পারলে, দেখবেন সকালে যেরকম ছিলেন, বিকালেও আপনি সে রকমটিই থাকবেন। সে জন্য আপনার সকালের অবস্থাটা ভালো হলেই বলা যাবে এটা একটা ভালো সূচনা। অনেক মানুষ সকালবেলাতেই ভালো থাকেন না। তারা সকালের শুরু থেকেই ফুঁসতে থাকেন। তাই যদি আপনার সকালটা ভালো হয়, সেটা হলো এক শুভারম্ভ। কিন্তু আবার আপনি সারাদিন ধরে আস্তে আস্তে আপনার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। আপনার কাজের ধরন এবং আপনি যে কাজটি করছেন, তার কারণে ধীরে ধীরে আপনার মানসিক শৈথিল্য হারিয়ে যাচ্ছে আর আপনি মানসিকভাবে চাপে পড়ে যাচ্ছেন।

মানসিক চাপের কারণ কাজ নয়। এটা বুঝতেই হবে। ‘ওহ, আমরা একটা হাসপাতালে আছি। সেই কারণে আমরা চাপগ্রস্ত।’ এটা সত্যি নয়। প্রত্যেকে ভাবেন যে তার কাজটাই খুব চাপের। প্রধানমন্ত্রীও তাই ভাবেন, আবার রাস্তার ঐ লোকটিও তাই ভাবেন। পৃথিবীতে কোনো কাজই চাপের নয়। আপনি নিজের সিস্টেম বা শরীরতন্ত্রকে ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছেন না। এটাই আপনাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে দিচ্ছে। আপনার শরীর, মন এবং আবেগকে কীভাবে রাখতে হবে—আপনি তা জানেন না। আর সেই কারণেই আপনি হয়ে পড়ছেন মানসিকভাবে চাপগ্রস্ত।

তাহলে আপনার শরীরতন্ত্র কীভাবে চাপমুক্ত রাখবেন যাতে করে যে কোনো সময়ে, তা সকালেই হোক বা সন্ধ্যায়, আপনার উত্সাহ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং খুশির মাত্রা একই থাকে? চিকিত্সাশাস্ত্রের ভাষায় বলা যাক। আপনি যদি আমার নাড়ি-স্পন্দন মাপেন, পেট খালি অবস্থায়, আমি ৩৫ থেকে ৪০-এর মধ্যে থাকব। তার মানে, শরীরবিজ্ঞানের দিক থেকে বললে, আমার শরীর গভীর ঘুমে রয়েছে। তবু আমি কিন্তু এই পৃথিবীতে যে কোনো ধরনের কাজকর্ম করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে জাগ্রত। আপনি যখন নিরন্তর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন মানসিক চাপের কোনো প্রশ্নই নেই। আবার যখন কোনো মানসিক চাপই নেই তখন কেন আপনি চারটের সময় একরকম আর নটার সময় অন্যরকম হবেন?

সুতরাং, এখন প্রয়োজন আপনার শরীরতন্ত্রকে এমনভাবে রাখা যেন সেটা নিজে থেকেই শিথিল এবং আরামের অবস্থায় থাকে, কাজকর্ম যাতে তার ওপর কোনো প্রভাব না ফেলতে পারে। হতে পারে শারীরিকভাবে আপনি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু সে কারণে আপনার মানসিকভাবে চাপগ্রস্ত হয়ে পড়ার কথা তো নয়! কর্মমুখরতার বিনিময়ে আপনি আপনার শারীরিক প্রণালির গতি ধীর করতে পারেন না। আপনি যদি প্রাণবন্তভাবে সক্রিয় থাকতে পারেন এবং তা সত্ত্বেও মানসিকভাবে শিথিল থাকেন, তাহলে সেটার গুরুত্ব আছে।

কিন্তু যদি আপনি এতটাই শিথিল হন যে কোনোরকম কাজকর্ম করতে অক্ষম হয়ে পড়েন, তাহলে তা কোনো কাজের কথা নয়। এক সম্পূর্ণ পদ্ধতি রয়েছে এটাকে সম্ভব করে তোলার জন্য। নির্দিষ্ট কিছু সহজ যোগ-অনুশীলন শুরু করলে, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আপনি লক্ষ্য করবেন, আপনার নাড়ির স্পন্দন গুনতিতে অন্তত ৮ থেকে ২০ অবধি পড়ে গেছে। তার মানে শরীরটা একটা শিথিল গতিতে চলছে, আরো অনেক বেশি কর্মদক্ষভাবে।

n সৌজন্যে : ঈশা ফাউন্ডেশন