মহিলা পরিষদের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তারা
g ইত্তেফাক রিপোর্ট
নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় নারীকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনো বৈষম্যের শিকার। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-আয় উপার্জনের ভিন্নতা অনুসারে একেক নারী ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে প্রশিক্ষণে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও যুক্ত করতে হবে। গতকাল শনিবার মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংগঠকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের ২৫টি জেলা শাখার ৫৯ জন সংগঠককে আটটি বিষয়ে দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভারনারেবিলিটি-এর পরিচালক ড. মাহবুবা নাসরীন ও হিরন্ময় হালদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ-গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।
অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, পারিবারিক ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনো বৈষম্যের শিকার। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-আয় উপার্জনের ভিন্নতা অনুসারে একেক নারী ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। একজন নারী সংগঠক নারী ইস্যু নিয়ে কাজ করতে গেলে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে প্রশিক্ষণে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও যুক্ত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার জন্য নারীকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এই সংগঠনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা। এটি ১৯৭৩ সাল থেকে হয়ে আসছে। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যখন প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিজের কাজের ক্ষেত্রে, সংগঠনে এবং পরিবারে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তখন তা ফলপ্রসূ হবে।
সীমা মোসলেম বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংগঠন এক দিকে নারী সমাজকে তাদের অধিকার, দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করছেন। অন্যদিকে জেন্ডার সংবেদনশীল মানব সম্পদ গড়ে তোলার কাজও করছেন। প্রশিক্ষণার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে নিজ জেলা, তৃণমূল শাখার জন্য পরিকল্পনা নেবেন এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ দান করবেন।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শেষে ২৫টি জেলা থেকে আগত ৫৯ জন সংগঠকের অংশগ্রহণে দলীয় কাজ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ দলগত উপস্থাপনায় নির্ধারিত বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও করণীয় বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরেন। শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ-গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদের সদস্য শাহজাদী শামীমা আফজালী, হোমায়রা খাতুন এবং সালেহা বানু প্রমুখ।
