দেশের উন্নয়ন আর যেন বাধাগ্রস্ত না হয় :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

 ‘বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়েই আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। বাংলার মাটিতে বারবার মোশতাক-জিয়ার মতো মিরজাফর ও বেইমানদের জন্ম হয়েছে। এসব মিরজাফর জন্ম নিয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে যারা বিশ্বাস করে, তারাই জয়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের মতো আর যেন কেউ এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, দেশের উন্নয়ন আর যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই দায়িত্বটা দেশের জনগণকেই নিতে হবে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ‘তোমাদের যা বলার ছিল, বলছে তা আজ বাংলাদেশ’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, সত্য ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, লাখো শহিদের রক্ত ও আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না, যেতে পারে না। আজ সেটা প্রমাণিত হয়েছে সারা বিশ্বের কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে। আজকের প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পেয়েছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কেউ পারবে না এটা মুছে ফেলতে।

জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত না থাকলে খুনি মোশতাক কখনো তাকে সেনাপ্রধান বানাত না। আসলে জিয়াই ছিল নেপথ্যের মূল লোক। কিন্তু মিরজাফর ও বেইমানরা বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। মিরজাফরও বেইমানি করে ১৫ দিন টিকে থাকতে পারেনি, খুনি মোশতাকও তিন মাস টিকতে পারেনি।

জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধ, খুন, সন্ত্রাস আর লুটপাট করেছে, তাদের বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিল এই জিয়া। দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা। দেশের এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে।

জাতির পিতার দেখানো পথেই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

স্বাধীনতার পর নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড কিন্তু বন্ধ হয়নি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হত্যাসহ নানা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড তখন চালানো হয়েছে। তখন কিছু লোক সরকারের সমালোচনা করে অনেক কথা লিখেছে, কিন্তু তারা সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির উপলব্ধি করেছিলেন কি না, আমার সন্দেহ হয়।’ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ঘটনাবলির বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনি মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেও বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। যে লোক পেছনে ছিল, সে-ই সামনে চলে এলো। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ইতিহাস বিকৃত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে তাদের মুক্ত করে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে। বঙ্গবন্ধুর নামটাও মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা তো মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। কখনো বৃথা যাবে না। সেটা প্রমাণিত হয়েছে এখন বাংলাদেশে। দেশকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, শহিদ বুদ্ধিজীবী আলতাব মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি ও উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভার শুরুতেই শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

প্রমাণ আছে, জিয়া সবচেয়ে বড়ো

রাজাকার : শেখ সেলিম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড়ো রাজাকার বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি জিয়াউর রহমান করেছেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই, জিয়াউর রহমানকে অনেকে বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তার সম্পর্কে এরকম কথা বলে কেন?’

বিএনপি অপশক্তিকে উসকানি দিতে চক্রান্ত

শুরু করেছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি আজকে অপশক্তিকে উসকানি দিতে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি আজকে এই অপশক্তিকে উসকানি দিচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।’