গণহত্যার কয়েক কদম দূরে কাশ্মির ও আসামের মুসলিম: গ্রেগরি স্টানটন

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৮

গণহত্যার হুমকির মুখে রয়েছে আসাম ও কাশ্মিরের মুসলিমরা। জাতিগত নিধনের থেকে এই দুটি রাজ্যের মুসলিমরা কয়েক কদম দূরত্বে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ডা. গ্রেগরি স্টানটন।

বৃহস্পতিবার ‘কাশ্মির ও এনআরসি’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে ভারতীয়-আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটি। সেখানে বক্তব্য দেয়ার সময় কথাগুলো বলেন তিনি।

রুয়ান্ডায় গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের সময় ১৯৯৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন গ্রেগরি। তিনি গণহত্যার বিশ্ববিখ্যাত ১০টি স্তরের কথা প্রথম বর্ণনা করেন। এ দিনের আলোচনায় তিনি আরও একবার সেই ১০টি স্তরের সঙ্গে ভারতের বর্তমান অবস্থার তুলনা করে বলেন, সেখানে সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, আসাম ও কাশ্মীরে যে নিপীড়ন চলছে, তা গণহত্যার পূর্ববর্তী স্তর। পরবর্তী পর্যায়টি হচ্ছে, সম্পূর্ণ ধ্বংস সাধন। যেটাকে গণহত্যা বলা হয়ে থাকে।

ভারতের দ্য উইক ও সিয়াসাত-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তিনি গণহত্যা বা জাতিগত নিধনের পূর্ববর্তী ১০ স্তরের সঙ্গে ভারতের বর্তমান অবস্থার তুলনা করে বলেন, প্রথম ধাপে সমাজে বিভাজন তৈরি করা হয়। যে বিভাজনে ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’ থাকে। দ্বিতীয় ধাপে ভুক্তভোগীদের ‘বিদেশ থেকে আগত’ বা ‘অবৈধ দখলদার’ হিসেবে বলা হয়।

বৈষম্যের তৃতীয় ধাপে নাগরিকদের ঐ নির্দিষ্ট অংশকে নাগরিকত্বের বাহিরে রাখার ঘোষণা দেয়া হয় এবং আইন করে তার বৈধতা তৈরি করা হয় যাতে ঐ শ্রেণির কোন মানবিক বা নাগরিক অধিকার না থাকে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত সকাল ঢাকার

এবার চতুর্থ ধাপে ভুক্ত ভোগীদের মানুষ থেকে প্রাণী বা পশুতে পরিণত করা হয়। তাদের বিভিন্ন কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার ও সংস্কৃতিকে সন্ত্রাসী, অমানবিক এবং পশুবৃত্তের পর্যায়ে তুলনা করা হয়। তাদেরকে মরণব্যাধী জীবানুর সঙ্গে তুলনা করা হয়, যার নির্মূলের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন হবে।

পঞ্চম ধাপে গণহত্যা করার জন্য বিশেষ বাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি জানান, ভারতের ক্ষেত্রে এই ভূমিকায় রয়েছে কাশ্মিরে পাঠানো তাদের সেনাবাহিনী এবং আসামে এনআরসি বাস্তবায়নকারীরা।

ষষ্ঠধাপে বড় ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। সেখানে মেরুকরণের পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়। এরপর সপ্তম ধাপ মূলত প্রস্তুতির জন্য রাখা। এই ধাপে নিপীড়ন যন্ত্র, জনবল সবকিছু নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়। অষ্টম ধাপে শুরু হয় নিপীড়ন ও নির্যাতন। গ্রেগরি জানান, আসাম এবং কাশ্মীর বর্তমানে এই ধাপে রয়েছে।

নিপীড়ন ও নির্যাতন শেষে নবম ধাপে নির্মূলীকরণ সম্পন্ন করা হবে এবং সবার শেষে দশম ধাপে এই নির্যাতন নিপীড়ন এবং জাতিগত নিধনের বিষয়টি অস্বীকার করা হবে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই ধাপে রয়েছে মিয়ানমার।

ইত্তেফাক/আরএ