হুমকিতে গঙ্গাচড়ার শংকরদহ বধ্যভূমি

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

তিস্তার ভাঙন

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

আর ১০০ ফুট ভাঙলে তিস্তায় বিলীন হবে শংকরদহ বধ্যভূমি। ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে সরেজমিনে দেখা গেছে এ চিত্র। স্বাধীনতার এত বছর পরও অরক্ষিত রয়েছে বধ্যভূমিটি।

১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর উপজেলার শংকরদহ গ্রামে ঘটেছিল নির্মম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনীর বুলেটে নির্মমভাবে শহিদ হন ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী। এদের মধ্যে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় পাকসেনারা ব্রাশফায়ার করে মেরেছে ছয় জনকে, চলতি পথে গুলি করে মেরেছে ১০ জনকে এবং বেয়নেট চার্জ করে মারে একজনকে।  স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান মিয়া বলেন, এবারের জন্য রক্ষা হলেও আগামী বছর আর রক্ষা হবে না। তিস্তায় বিলীন হবে বধ্যভূমিটি। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার ভাঙন থেকে বধ্যভূমি রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক আবেদন-নিবেদন করার পরও কাজ হয়নি। আজও অরক্ষিত রয়ে গেল বধ্যভূমি। গঙ্গাচড়া উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল ইসলাম বলেন, শুধু শুনি সরকার বধ্যভূমি রক্ষায় অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু কাজ আর হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমা বেগম বলেন, শহিদদের স্মরণে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন। কিন্তু তিস্তা এর কার্যক্রমকে বিলম্বিত করছে। তারপরও এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, শংকরদহ বধ্যভূমিসহ ভাঙন এলাকা রক্ষার জন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছে। আবারও পরিদর্শন করে প্রকল্প তৈরি করে একনেকে পাঠাবে। প্রকল্প পাশ হলে ভাঙন রক্ষা কাজ শুরু করা হবে।