বড় জয়ে সমতা আনলো অজিরা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৭

পঞ্চম দিন সকালে লড়াই-ই করতে পারলো না ভারত। শেষ পাঁচ উইকেটে বিরাট কোহলির দল যোগ করতে পারলো আর মাত্র ২৮ রান। ফলাফল, অস্ট্রেলিয়ার ১৪৬ রানের বিশাল এক জয় দিয়ে স্মরণীয় হয়ে রইলো পার্থ স্টেডিয়ামের অভিষেক।

এ জয়ে চার ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা আনলো অজিরা। অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৩১ রানে জিতেছিল ভারত। আগামী ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডেতে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। এ ম্যাচে যারা জিতবে তারা সিরিজ হার এড়াতে পারবে।

পার্থ টেস্ট জিততে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৭৫ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। এমন সমীকরণ নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান হনুমা বিহারি ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্থ। বিহারি ২৪ ও পান্থ ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

দিনের শুরুটা দেখেশুনেই করেছিনে বিহারি ও পান্থ। তবে দিনের ষষ্ঠ ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে সাফল্যের মুখ দেখান অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি পেসার মিশেল স্টার্ক। ২৮ রান করা বিহারিকে শিকার করেন তিনি।

বিহারির পর ৩০ রান করা পান্থকে বিদায় করেন অফস্পিনার নাথান লিঁও। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে শেষ দুজন বিহারি ও পান্থকে হারিয়ে ম্যাচ হারের পথ দেখে ফেলে ভারত।

দলীয় ১৩৭ রানে পান্থের বিদায়ের পর ভারতের বাকী তিন উইকেটের পতন ঘটাতে মোটেও সময়ক্ষেপণ করেনি অস্ট্রেলিয়া। ভারতের তিন শেষ ব্যাটসম্যানকে শিকার করেন স্টার্ক ও কামিন্স। উমেশকে দুই রানে স্টার্ক এবং ইশান্ত-বুমরাহকে শিকার করেন কামিন্স।

দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানে অলআউট হয় ভারত। এদিন ভারতের ব্যাটসম্যানরা টিকতে পারে মাত্র ১৫ ওভার। শেষ তিন ব্যাটসম্যান রানের দেখাই পাননি। অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা ছিলেন রুদ্র রূপে। ২১ রানের মধ্যে ভারত হারিয়েছে শেষ ৫ উইকেট।

 অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক-লিঁও তিনটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স দুটি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার লিঁও। পুরো ম্যাচে বল হাতে আট উইকেট নিয়েছেন তিনি। পেস আর বাউন্সি উইকেটে একজন স্পিনারের এমন পারফরম্যান্স নিশ্চয়ই অপ্রত্যাশিত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৩২৬/১০, ১০৮.৩ ওভার (হ্যারিস ৭০, হেড ৫৮, ফিঞ্চ ৫০, ইশান্ত ৪/৪১)

ও দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪৩/১০, ৯৩.২ ওভার (খাজা ৭২, পাইন ৩৭, সামি ৬/৫৬)।

ভারত প্রথম ইনিংস: ২৮৩/১০, ১০৫.৫ ওভার (কোহলি ১২৩, রাহানে ৫১, লিঁও ৫/৬৭)

ও দ্বিতীয় ইনিংস: ১৪০/১০, ৫৬ ওভার (রাহনে ৩০, পান্থ ৩০, লিঁও ৩/৩৯)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: নাথান লিঁও (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ: চার ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।