মাটির সুরক্ষা ও গুণাগুণ পরীক্ষা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৭

প্রতিষ্ঠানটির নাম মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। ইহা বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যাহা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। অবশ্য তাহারও আগে পাকিস্তান ভূমি জরিপ কর্মসূচির পরিদপ্তরের পূর্ব পাকিস্তান শাখা হিসাবে ইহার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮২ সালে আধুনিকায়নের হাত ধরিয়া ইহা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। ইহার লক্ষ্য হইল সীমিত ভূমি এবং মৃত্তিকা সম্পদের যুক্তিযুক্ত ও লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মৃত্তিকা পরিবেশ সুরক্ষা করা। কৃষকের মৃত্তিকা নমুনা সরেজমিনে পরীক্ষা করিয়া ফলাফলের ভিত্তিতে সুষম মাত্রার সার সুপারিশ করিবার লক্ষ্যে ইহার কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারও রহিয়াছে। বিশেষ করিয়া, শস্য উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সার্বিক মৃত্তিকা ব্যবপস্থাপনায় ইহা নানাভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করিয়া আসিতেছে। আজ আমরা খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করিয়াছি, তাহাতেও এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিজ্ঞানীদের অবদান রহিয়াছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় নাই। বাংলাদেশ এখনো একটি কৃষিপ্রধান দেশ। অথচ সারাদেশে এই ইনস্টিটিউটের মাত্র ২৪টি জেলা কার্যালয় রহিয়াছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ইহার কার্যালয়, শাখা ও গবেষণাকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক।

এসআরডিআই বা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আকাশচিত্র বিশ্লেষণ, মাঠ জরিপ ও গবেষণাগারে মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে মৃত্তিকা জরিপ সম্পন্ন করিয়া থাকে। এই জরিপ সেচসুবিধাযুক্ত এলাকা ও ফসল উত্পাদনে ক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য একান্ত দরকার। দেশের মাটির শারীরিক, খনিজ ও অনুজীব বিশ্লেষণ এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরাই করিয়া থাকেন। তাহারা সমস্যাক্লিষ্ট মৃত্তিকা যেমন বিষাক্ত, লবণাক্ত, ক্ষারীয় বা পিট মাটি, মৃত্তিকার উর্বরতা অবক্ষয় ইত্যাদি সমস্যা চিহ্নিত করিয়া সমাধান জনগণকে প্রদান করেন। তাহারা মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফল, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচিসহ স্থানীয় পর্যায়ে মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের সার সুপারিশ করেন। এক কথায় এই প্রতিষ্ঠানকে অনেকে ‘মাটির হাসপাতাল’ হিসাবে বিবেচনা করিয়া থাকেন। বাংলাদেশের এক অঞ্চলের মাটির সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মাটির বেশ পার্থক্য বিদ্যমান। ফলে মাটির পুষ্টি উপাদান সব জায়গায় একই হয় না। এই জন্য ফসল বোনার আগে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা চাই। মাটির এই গুণাগুণ পরীক্ষা করিবার ব্যাপারে আমাদের অনেক কৃষকের মাঝে সচেতনতা তৈরি হয় নাই। অনেকে এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেই জানেন না দুঃখজনকভাবে। এই জন্য এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সর্বত্র ছড়াইয়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

যেহেতু আমাদের দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, তাই ফসল উত্পাদনে তাহাদের মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। বেশি উত্পাদনের আশায় অনেকে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করিয়া থাকেন এবং কীটনাশক ছিটান, যাহা কাম্য নহে। ইহা প্রকারান্তরে জমির উর্বরতাশক্তি নষ্ট করিয়া ফেলে। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উত্পাদন হয় না ফসল। অতএব, সব কৃষকের নিকট মৃত্তিকা ইনস্টিটিউটের সেবা পৌঁছাইয়া দেওয়া প্রয়োজন। এই জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় ইহার কার্যালয় গড়িয়া তুলিতে হইবে। ফসল উত্পাদন বৃদ্ধিতে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করিতে হইবে।