আনিসুর রহমান
উচ্চ মাধ্যমিক পেরোনো লাখো ছেলেমেয়ের চোখে আঁকিবুকি করে এ নাম। তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক ছেলেমেয়েরই এখানে পড়ার সৌভাগ্য হয়। এই ছেলেমেয়েগুলোর স্বপ্নের আবর্তন হয় নতুন করে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল আমাদের। আজ থেকে ঠিক ৪ বছর আগে অর্থনীতি বিভাগে আমাদের নতুন এক স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়। অর্থনীতি বিভাগ আমাদের ৯৫তম নবীনতম ব্যাচ হিসেবে বরণ করে নেয়।
মনে পড়ে, ডিপার্টমেন্টে হই-হুল্লোড় করে সময় কাটানোর দিনগুলো। কত খুনশুটিতে মেতেছি আমরা। ক্লাস শেষ করে হলে ফেরার সময়ে আমাদের দুরন্তপনা যেন আরো বেশি করে জেঁকে বসত! আর হলে থাকা অর্থনীতি পড়ুয়া বন্ধুদের আড্ডা বোধহয় শেষই হতে চাইত না। রাতের আড্ডাগুলো বেশ জমত। নানা উপাখ্যান রচনা করে ভিসি চত্বরের আড্ডা শেষ করতে করতে কখন যে মধ্যরাত হয়ে যেত সেদিকে বোধহয় কারোরই ভ্রুক্ষেপ থাকত না। আড্ডা গড়িয়ে কখনো সখনো গভীর রাত পেরোত। মাস ছয়েক পরপর হলের বন্ধুরা তো রীতিমতো মহাভোজের আয়োজন বসাত। তবে পড়াশোনার সময় সবাই ভীষণ রকম সিরিয়াস। ক্লাস,পরীক্ষার সময়ে পড়াশোনায় রীতিমতো বুঁদ হয়ে যেতাম আমরা। আমাদের মধ্যে আমাদের-ই কোনো বন্ধু পরীক্ষায় প্রথম হতো কেউ-বা আবার আশাপ্রদ রেজাল্ট না পেয়ে হতাশায় নুয়ে পড়ত। তবে এ দিনগুলোতে সবাই সবাইকে সাহস দিয়েছি। আমাদের দিনগুলো কখনোই থেমে থাকেনি। পরীক্ষা শেষ হলে আমাদের আর পায় কে! দল বেঁধে এখানে-ওখানে ঘুরতে চলে গিয়েছি। কখনো টাঙ্গুয়ার হাওর, কখনো বা সাজেক আবার কখনো বা সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে। কী অসাধারণ আমাদের সময় কেটেছে!
আমাদের মধ্যে অনেকে বিভাগের পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, সেমিনার, খেলাধুলা কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের মেধা শানিত করার সুযোগ লুফে নিয়েছে। আবার কেউ অতিমাত্রায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠ কাঁপিয়েছে। আমাদের ব্যাচের ছেলেমেয়েগুলো বোধকরি সব বিষয়েই সমান পারদর্শী। একে তো ক্রিকেট, ফুটবলে একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনেও কেউ কারো থেকে কম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন যশস্বী বিতার্কিক তো আমাদের ব্যাচেরই। তবে ব্যাচের একটা গোপন কথা হচ্ছে—আমাদের ব্যাচে বেশকয়েকটি প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেম করেছে। এক জুটির প্রণয় তো বিয়েতে রূপ নিয়েছে।
তবে আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি ছিল জাহিদের পর একে একে আহমদ, নির্ঝর কিংবা মিরাজকে হারানো। আহমদ আর নির্ঝরকে কিংবা মিরাজকে হারিয়ে আমরা যেন ছোটোখাটো একটা ট্রমায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে প্রতিবারই শোক কাটিয়ে আমরা হয়তো আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করেছি। আমাদের গল্পগুলো আবার আগের মতো করে প্রাণ ফিরে পেতে সময় নিয়েছে।
গত চার বছরে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জমা হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের হয়ে আমাদের এই চার বছরের বর্ণিল জীবনের ইতি ঘটে গেল। আবার হয়তো ৩০১,৩০২,৩০৩ কিংবা ৪০৪৫ নম্বর কক্ষে বসে ক্লাস করার দিনগুলো মনের অজান্তে ফিরে ফিরে আসবে। এই সুখকর অনুভূতিগুলোই আমাদের ভালোবাসা ফিকে হতে দিবে না। ভালোবাসি ৯৫তম ব্যাচের সেই রংচঙা দিনগুলো।
