রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আঠারোর ইতিবৃত্ত

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১

  আসিফ হাসান রাজু

 

সবমিলিয়ে ৪৫ জনের একটি দল। প্রত্যেকে সাদা টি-শার্ট পরে হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেছে আর একে অপরের টি-শার্টে মনের কোণে জমে থাকা অগোছালো কথাগুলো রঙিন কালি দিয়ে লিখতে ব্যস্ত। চার বছরে একসঙ্গে কাটানো হাজারো স্মৃতি, অভিজ্ঞা, মন্তব্য, লিখে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যস্ত সবাই। নিমিষেই ধবধবে সাদা টি-শার্ট ভরে উঠেছে বন্ধুদের লেখ কলমের আচড়ে।

কেউ একজন লিখেছে ‘ভালো থেকো বন্ধু’। আরেক জন লিখেছে ‘আর কেউ মনে না রাখুক, তুই রাখিস’। কেউবা লিখেছে ভণ্ড ছেলে, ঘুমবাজ, লেটবয়, ভদ্র ছেলে—এভাবে চার বছরের নানা অব্যক্ত কথা লিখে সাদা টি-শার্টটি ভরিয়ে তুলেছে। যে কথাগুলো হয়তো আগে কখনো বলা হয়নি। এরপর শুরু আবির খেলা। সাউন্ড বক্সে গানের তালে আবিরের আলত ছোঁয়াতে নিজেদের রাঙাতে ব্যস্ত সবাই। এদিন নাচে-গানে আড্ডা আর হইহুল্লোড়ে দিনভর মেতে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে ফ্লাশ মুব, শোভাযাত্রা, সেলফি আর গ্রুপ ছবিতে নিজেদের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে কেউ হয়তো কার্পণ্য করেনি সেদিন। আঠারো মানেই যে তারুণ্য! সদা হাস্যোজ্জ্বল। আঠারো মানেই বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি’ বিদ্রোহের কবি, বিপ্লবের কবি, প্রতিবাদের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার এই কবিতার শেষে লিখেছিলেন ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচ যেন কবি সুকান্তের ভাষারই প্রতিচ্ছবি। র্যাগ ডেতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নূর মুর্শিদা রাসূল চার বছর একত্রে কাটানো স্মৃতির কথা তুলে ধরে জানালেন ‘ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শুধু তার বন্ধু নয়, তারা তার সহযোগী, সহযোদ্ধা। সুখে-দুঃখে যারা সবার আগে এগিয়ে আসে। যাদের কাছে নিজের অনেক অব্যক্ত কথাও শেয়ার করা যায়। শিক্ষাজীবন শেষ প্রান্তে এসে মনে হচ্ছে খুব দ্রুতই দিনগুলো শেষ হয়ে গেল।’ ক্যাম্পাসে কাটানো দিনের স্মৃতিগুলোর মধ্যে র্যাগ ডের এই দিনটি সবথেকে সেরা বলে অনুভূতি প্রকাশ করেন আরেক শিক্ষার্থী জুবায়দা গুলশান আরা লিজা। তিনি আরো বলেন, ‘দিনটি একইসঙ্গে আনন্দের আবার বেদনারও।’ তার পাশ থেকে নিজের অনুভূতির কথা জানান দিলেন, মুন্নাফ, প্রিতম, রাব্বি, সোয়েব, রেজওয়ান, মেহেদী, মাসুদ। একযোগে বললেন, এত তাড়াতাড়ি যে প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে সেটা ভাবতে পারছি না। তবে সময় বলে দিচ্ছে ‘এবার যেতে হবে। ছেড়ে দিতে হবে স্থান।’ এরপর সন্ধ্যায় সবাই একত্রিত হয়ে ফানুশ উত্সবের আয়োজন করে।