স্পোর্টস ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে বেশ কয়েকটা পালাবদল হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যাকস ফ্যাউল, ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন গ্রায়েম স্মিথ, মার্ক বাউচারকে দেওয়া হয়েছে প্রধান কোচের দায়িত্ব। আরেকটা পরিবর্তন আসন্ন। শোনা যাচ্ছে, ড্রেসিংরুমে ফিরতে যাচ্ছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। হ্যাঁ, খেলোয়াড় হিসেবেই। এমন আভাস দিলেন স্বয়ং অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস।
চলতি বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাকি খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। সেই নিয়ে বিশ্বকাপ শেষে মুখ খুলেছিলেন তখনকার কোচ ওটিস গিবসন। সেই নিয়ে বেশ জল ঘোলাও হয়। তবে, সেবার না হলেও এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে দলে দেখা যেতে পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান সব কিছু ঠিকঠাক চললে অবসর ভেঙে আবারও ফিরবেন।
মূলত মার্ক বাউচার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভিলিয়ার্সের ব্যাপারে। গেল শনিবার তিনি দলের দায়িত্ব নেন। নতুন কোচ আসছে বছরের অক্টোবর নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখতে চান ভিলিয়ার্সকে।
এই ব্যাপারে ডু প্লেসিস ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ম্যাচের ফাঁকে বলেন, ‘আমি এখন ডি ভিলিয়ার্স সংক্রান্ত প্রশ্নে খুব অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ভক্তরা এবিকে আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে দেখতে মুখিয়ে আছে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। গত কয়েক মাস ধরে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি একটা ভিন্ন খেলা। আমরা যদি সেখানে বড়ো কিছু করতে চাই, তাহলে প্রস্তুতিটাও সেভাবেই নিতে হবে। এই মৌসুমের পুরোটা জুড়েই আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকব। ফলে, টি-টোয়েন্টি খেলার সময় ওর (এবি ডি ভিলিয়ার্স) প্রসঙ্গ আসবেই।’
ভিলিয়ার্স দাবি করলেন, বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দলটা নিয়েই হাজির হবে প্রোটিয়ারা। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন, তখন নিজেদের সেরা দলটাকে নিয়েই যাবেন। আর যদি আপনি মনে করেন ও (এবি ডি ভিলিয়ার্স) আমাদের সেরা একজন খেলোয়াড়, তাহলে অবশ্যই ওর সাথে আমরা আলাম পারব। যদি, কোনো বিষয়ে খটকা থাকে —সেটা আলাপ করে সমাধান করব। বিষয়ট যদি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের স্বার্থেই হয়, তাহলে চেষ্টা করে দেখতে দোষ কোথায়!’
তবে, জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার টিকেট নিশ্চিত করতে হতে আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে ভিলিয়ার্সকে। আসছে ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে ছয়টা টি-টোয়েন্টি খেলবে প্রোটিয়ারা। এরপর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে আরো পাঁচটা। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে কয়েকটাতে খেলে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে ভিলিয়ার্সকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের ইদানিংকালের পালাবদলকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন ডু প্লেসিস। তিনি বলেন, ‘একটা সপ্তাহের মধ্যে অনেক কিছুই পালটে গেছে। খুব বাজে একটা অবস্থায় ছিলাম আমরা। সেই অন্ধকারটা কেটে গেছে। এটা খুব জরুরি ছিল। এর ফলে, ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড় ও কোচদের কাজ করাটা সহজ হবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক ব্যাপার। প্রতিটা জায়গায় সঠিক মানুষগুলোকে আমার নিতে পেরেছি। ফলে, আমি সহ সবাই এখন ইতিবাচকতা নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’
এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, ডি ভিলিয়ার্সও তাকিয়ে আছেন সামনের দিকেই!
