স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজাকারের তালিকায় থাকা কিছু নাম বাদ দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নোট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী কৃষক লীগ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন এবং চলমান দুর্নীতি, মাদক ও মজুতদারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে একাত্মতা প্রকাশ করে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দালাল আইনে ১৯৭২ সালে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, তদন্ত শুরু হয়েছিল, পরে আবার কেউ কেউ মামলা থেকে প্রত্যাহার হয়েছিল, তাদের আমরা প্রাথমিকভাবে নিয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে সেই মামলার বিবাদীদের নাম লিস্ট করি। পরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ভুল করে হোক আর যেভাবে হোক এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি আরো যাচাই-বাছাই করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আবার তালিকা প্রকাশ করবে। আমরা যেটা পাঠিয়েছিলাম, সেখানে নোট দিয়েছিলাম এত নম্বর থেকে এত নম্বরের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরিভাবে এই নোট ছাড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান থেমে নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই অভিযান চলবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি পরিষ্কারভাবে ভারতকে বলেছি, আপনারা যাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দিবেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাদের দেশে গিয়ে আমি বলেছি, আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। অমিত শাহকে আমি বলেছি, আপনি বার বার বলছেন, আপনারা কোনো হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে তাড়িয়ে দেবেন না। আমি আপনাদের মতামতকে স্বাগত জানাচ্ছি। কারণ ১৯৭১ সালের পরে কোনো মুসলমান বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। কিংবা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেনি। মন্ত্রী আরো বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি, সেই সময়ে যাদের আপনারা (ভারত) আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেবেন। আমরা ওয়েলকাম জানাব। সেজন্য এনারসিতে তারা কোনো হিন্দু-মুসলমানকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে, এটা মনে হয় হবে না। কারণ ১৯৭১ সালের পরে আমাদের দেশ থেকে কোনো লোক যায়নি।
কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম প্রমুখ। সভায় কৃষক লীগ নেতাদের দুর্নীতি, মাদক ও মজুতের বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করান ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
