কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি মারমেইড বিচ রিসোর্টের লাগোয়া ‘গুড ভাইব কটেজে’ নিরাপত্তাকর্মীর সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ান এক নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় মারমেইড ইকু ও বিচ রিসোর্টের পরিচালক আনিসুল হক সোহাগের ভাই শামিমুল হক স্যামকে আটক ও এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন। গত রবিবার রাতে ঐ নারী জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছিল। শামিমুল হক স্যামের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি অনুমোদনহীন ‘গুড ভাইব কটেজে’ এ নারী রাত্রিযাপনের জন্য ওঠেছিলেন। তাই স্যামকে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত দুজন হলো রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে আনচার উল্লাহ (২৪) ও আবদুল মুনাফের ছেলে আব্দুল গফুর (২০)। মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে বেলাল উদ্দিন (২৫) নামে আরো একজনকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সে পলাতক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, অস্ট্রেলিয়ান ঐ নারী পর্যটক অন অ্যারাইভাল ভিসায় গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ঘুরতে আসেন। শনিবার অনলাইনে বুকিং দিয়ে রবিবার তিনি মারমেইড বিচ রিসোর্ট সংলগ্ন ‘গুড ভাইব কটেজে’ ওঠেন। মাঝরাতে তার ঘরে অনুপ্রবেশ করে দুই যুবক। যুবকরা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। যুবকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ঐ নারী কটেজ থেকে বের হয়ে চিত্কার শুরু করে। এসময় দুই যুবক পালিয়ে যায়। ধস্তাধস্তিতে অস্ট্রেলিয়ান নারী আহত হন। পরে তিনি ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। এরপর রামু থানার পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়। এ সময় কটেজের মালিক শামীমের এক ভাই ও নিরাপত্তাকর্মীসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের নিরাপত্তাকর্মী নিজেই গফুর ও বেলাল নামে ঐ দুই যুবককে খবর দেয়। তারা সেখানে চুরি করার জন্য প্রবেশ করেছিল। এরপর ঐ নারীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। রাতেই পুলিশ গফুরকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেছে। মামলায় তিন জনকে প্রত্যক্ষ এবং আরো বেশ কয়েক জনকে পরোক্ষ আসামি করা হয়েছে। পলাতকদের ধরার চেষ্টা চলছে। অস্ট্রেলিয়ান ঐ নারী পর্যটকের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ রয়েছে। মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় ফিরে গেছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
