রিট খারিজ, নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৯

ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার দায়েরকৃত তিন রিট আবেদন গতকাল মঙ্গলবার সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি জে বি এম হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। এর আগে এই বেঞ্চে ন্যায় বিচার পাবেন না মর্মে অনাস্থার আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও বদরুদ্দোজা বাদল। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দিয়ে শুনানির জন্য নির্দেশ দেন।

আইনজীবীরা বলেন, এই বেঞ্চের প্রতি আবেদনকারীর আস্থা নেই। এ কারণেই অনাস্থার আবেদন দেওয়া হয়েছে। আর আপনি (বিচারক) শুনানি করতে বলছেন? আমরা খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবো। সময় দিন। আদালত সময় আবেদন নামঞ্জুর করে ইসির আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে শুনানি করতে বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি শুরু করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার তিনটি আবেদন খারিজ করে দেয়।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি মামলায় দুই বছর বা এর অধিক দণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আদালত আমাদের শুনানি গ্রহণ করে রিট আবেদনগুলো খারিজ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানোর পরেও আদালত খালেদা জিয়ার আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়। বিচারকের উচিত ছিল মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠানো। ফলে আমরা যে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছিলাম, সেটাই প্রমাণিত হলো।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিলে ৫ বছরের পরিবর্তে খালেদা জিয়াকে দশ বছরের সাজা দেয় হাইকোর্ট। এ ছাড়া, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে সাত বছরের দণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। উভয় আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন খালেদা জিয়া। দণ্ডিত হওয়ার পরেও ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে ওই মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে ইসি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তা খারিজ করে দেয়।