বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৮

মো. আমিরুজ্জামান

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

 

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, রেলওয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, নারীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা ও ক্রীড়ানুষ্ঠান, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সকালে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, স্কুল-কলেজ, বাংলাদেশ রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও মনোরম ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। ডিসপ্লেতে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের নানা বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, তুলশীরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াপাড়া আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সেন্ট জেরোজা স্কুল অংশ নেয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান পাশা। পুরো স্টেডিয়ামটি সাজানো হয় লাল ও সবুজ কাপড় দিয়ে। ফলে অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হয় সেখানে।

একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার ও সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার একরামুল হক। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুপুরে নারীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও শিশু শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।

এদিকে সৈয়দপুর প্লাজা প্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীদের সমন্বয়ে পরিবেশন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ-গানে জমে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানটি।

অপরদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে রেলওয়ে মাঠে কুচকাওয়াজ ও আকর্ষণীয় ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি উদযাপনে নানা কর্মসূচি পালন করে।