ধানের দাম কম
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
চলতি মৌসুমে আমন ধানের দাম কম হওয়ায় খরচের টাকা উঠছে না। তাই ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নীলফামারীর কৃষকরা আলু চাষ করছেন।
এই অঞ্চলের মাটির প্রকারভেদে কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলুর ফলন ভালো হয়। চলতি মৌসুমে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।
জেলার জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ দেশিবাই গ্রামের আলু চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, বাজারে আমন ধানের দাম কম। লোকসান কাটিয়ে উঠতে আমরা এবার আলু চাষ করছি। এবার আগাম আলুর যে দাম পাওয়া গেছে, তাতে কৃষক খুবই খুশি ও লাভবান হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে লাগানো আলুর বাজার দর পরবর্তী সময় কেমন থাকবে তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে কৃষক।
একই এলাকার কৃষক জাহেনুর ইসলাম বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। এখন চারা বের হতে শুরু করেছে। অনেকেই আলুতে সেচ দিচ্ছে, কিছুদিন পরে তুলে ফেলবে।
সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের আলু চাষি সৈয়দ আলী বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক ধান উত্পাদন করে। আর সেই ধান বাজারে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধস নামে। এ কারণে চাষিদের বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হয়। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় উত্পাদিত পণ্য বেচাকেনা করে অধিক লাভবান হয়। অন্যদিকে কৃষকদের লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে মাঠে ফসল ফলাতে হয়। প্রতি বছর আমন মৌসুমে সরকার লটারির মাধ্যমে ধান ক্রয় করে। এতে গুটি কয়েক কৃষক উপকৃত হলেও বেশির ভাগ কৃষক বঞ্চিত হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আলু একটি লাভজনক ফসল যা সারা বছর ঘরে রেখে খাওয়া ও বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এবার বাজার দর ভালো থাকলে আলু চাষে কৃষক লাভবান হবে।
