তিন বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম!

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩০

চিলমারী নৌবন্দর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও চিলমারী সংবাদদাতা

চিলমারী নৌবন্দর চালুর ঘোষণার তিন বছরেও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এর মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বন্দর এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। কিন্তু এখনো নৌবন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়নও হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চিলমারীকে নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর চিলমারীর রমনা ঘাট নামক স্থানে পন্টুন স্থাপন করে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই বন্দর উদ্বোধন করে।

চিলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন (১০২) ইত্তেফাককে বলেন, একসময় উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালিত হতো কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নৌবন্দরকে ঘিরেই। তত্কালীন জমিদার ও মহাজনরা এই চিলমারী বন্দর থেকেই পণ্য আনা-নেওয়াসহ ব্যবসা পরিচালনা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলের উত্পাদিত পণ্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাত। এ বন্দর দিয়ে হাজার হাজার মণ পাট, ধান, চাল প্রভৃতি পণ্য নিয়ে বড়ো বড়ো জাহাজ চলাচল করত। বন্দরটিকে ঘিরে চিলমারীতে গড়ে উঠেছিল পাট, সরিষা, ধান, গম, বাদাম, তিসি ও ভুট্টার গুদাম ঘর। দেশের নামিদামি পাট কোম্পানিগুলো চিলমারীতে এসে অফিস খুলে পাট ক্রয় করতেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন ধরনের মালামাল ক্রয় করার জন্য দিনের পর দিন অবস্থান করতেন।

চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার (বীর বিক্রম) ইত্তেফাককে জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে কলকাতা থেকে গৌহাটি এবং আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত নৌ-যাতায়াত ছিল। তাই বিআইডব্লিউটিএ সেখানে পাইলট বিট ও এসএসবি স্টেশন স্থাপন করে। চিলমারী বন্দরটি একসময় সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল, ছিল বেশ নাম ডাক। কালের বিবর্তনে এবং নদী ভাঙনসহ নদীর নাব্য সংকটের কারণে চিলমারী বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্দর কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিচালক মো. শফিকুল হক বলেন, ‘নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চলতি বছরের ২২ নভেম্বর বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেছেন, চিলমারী নৌবন্দর আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে ব্যবহূত হবে এবং দ্রুত এর কার্যক্রম শুরু হবে। এটি আন্তর্জাতিক নৌ-রুট হিসেবে ব্যবহূত হবে এবং একনেকে পাশ হলেই বন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে।’