রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রহস্যজনক ------------------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪১

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তালিকা গোলমাল করে ফেলেছে, তবে কীভাবে এমন ভুল হলো তা রহস্যজনক। সরকারের প্রধান হিসেবে এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, রাজাকারের তালিকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুব খারাপ কাজ হয়েছে।  রাজাকারের তালিকায় কোনোভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকারের তালিকায় রাখা যাবে না, এটা অসম্ভব। এটি খুব কষ্টের বিষয়। যার পরিবারের সদস্যরা শহিদ হয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন তাদের যদি রাজাকার শব্দটি শুনতে হয়, তাহলে খারাপ লাগারই কথা। আমি বলব যারা দুঃখ পেয়েছেন তারা শান্ত হোন। যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা কোনো দিনও রাজাকারের তালিকায় থাকতে পারেন না। এটি হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম, তালিকাগুলো নিয়ে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি এটি প্রকাশ করার কথা না। তাও বিজয় দিবসের আগে। এত সুন্দর বিজয় দিবস উদ্যাপন করলাম, কিন্তু শহিদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এতে কষ্ট পেয়েছে। তালিকাটি সময় নিয়ে প্রকাশ করা দরকার ছিল। আসলে আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম সব দিক সময়মতো খেয়াল রাখতে পারিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজাকারদের তালিকা করতে গিয়ে, স্বাধীনতার পর যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল তাদের তালিকাও ঢুকে পড়েছে। ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল তাদের অনেককেই পাকিস্তান দুর্বৃত্ত-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাদের তালিকা ধরে ধরে কষ্ট দিয়েছে। এইচ এম এরশাদের সময়ও এটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জে ১ নম্বর সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম ছিল জিল্লুর রহমানের। আমরা ক্ষমতায় এসে এটি অমিট করতে বলেছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা এ রকম ১ হাজার জনের মতো নাম দেওয়া হয়েছে। সেটি কীভাবে ওই তালিকায় চলে গেল এটি একটি রহস্য। রাজাকারদের তালিকা তো গেজেট করা আছে। আলবদর, আলশামস এদের গেজেট করা আছে। আমরা যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করলাম ওই গেজেট থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজেই যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তা কোনোমতেই রাজাকারের তালিকা নয়। যাদের ওই সময়ে জন্ম হয়নি এমন অনেকেরই নামই তালিকায় ঢুকে গেছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভালো কাজ করলে সবার সহযোগিতা পাওয়া যায়। সবার সহযোগিতায় উন্নয়নের চাকা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যার ফলাফল জনগণ পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে নষ্ট করে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে আবার উন্নয়নগুলো নতুন করে শুরু করলাম। কাজেই বাংলাদেশের যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে তার অগ্রযাত্রা কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।’ শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যের হার ১৬/১৭-তে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবো। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য যে তিনটি ক্রাইটেরিয়া দরকার তা আমরা ইতিমধ্যে অর্জন করে দেখিয়েছি। ক্রাইটেরিয়াগুলো আমরা সামনে আর অর্জন না করলেও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা তালিকায় থাকব। তার পরও আমরা আমাদের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে চাই।’