রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত ড্রাগন গ্রুপের কারখানা ড্রাগন সোয়েটারে শ্রম অসন্তোষ চলছে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ না করা এবং অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে কারখানাটির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গত এক বছরের অধিক সময় ধরে মাঝে মাঝেই শ্রম অসন্তোষের খবর পাওয়া যেত কারখানাটির বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ১১ ডিসেম্বর কারখানাটির নিটিং বিভাগের শ্রমিকদের মজুরি কম দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ৬০০ শ্রমিক কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকে। এর জেরে কারখানা কর্তৃপক্ষ চার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে চাকরিচ্যুত করা হলেও এ বিষয়ে কোনো চিঠি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, আবার পাওনাও পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ পক্রিয়ায় গত এক বছরে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কারখানাটির চেয়ারম্যান তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের বঞ্চিত করতে মালিকপক্ষ নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। কেউ পাওনা অর্থ চাইলে কিংবা প্রতিবাদ করলে তাকে কারখানা থেকে বের করে দেয়। এক্ষেত্রে তার প্রাপ্য সার্ভিস সুবিধাও দেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান। শ্রমিকদের এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসব মিথ্যে কথা। শ্রমিকদের সব ধরনের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ করা হয়। শ্রমিকরাও ঠিকমতো কাজ করছে।
চাকরিচ্যুত চার শ্রমিকের একজন নিটিং অপারেটর শাহীন ইত্তেফাককে বলেন, ঐদিন শ্রমিকরা কারখানায় না আসার পর আমাদের চার জনের চাকরি চলে গেছে। কিন্তু কোনো চিঠি দিচ্ছে না। আবার অফিসেও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, কোনো পাওনা দিচ্ছে না। অন্য শ্রমিকরা ভয়ে কোনো কথা বলছে না।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সোয়েটার কারখানায় কাজ না থাকলেও মূল বেতন দিতে হয়। গত মাসে আমরা গড়ে প্রায় ১৫ দিন কাজ করেছি আর ১৫ দিন কাজ না থাকায় করতে পারিনি। একেকজন বেতন পেয়েছি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। অর্থাত্ যে দিনগুলো কাজ ছিল না, সে দিনের জন্য মূল বেতন দেয়নি। এত কম টাকায় কি ঢাকা শহরে চলা সম্ভব? প্রোডাকশন বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও খুবই কম দেয়। হাজিরা বোনাস দেওয়া হয় না। এছাড়া শ্রমিকদের দিয়ে প্রতি মাসের বেতনের দুটি শিটে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। একটি প্রকৃত বেতনের। অন্যটি সরকার, বায়ার বা অডিটে দেখানোর জন্য।
প্রায় একই অভিযোগ করেছেন একই কারখানার আরেকজন সুপারভাইজার। তিনি বলেন, যারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতন পান, তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া। এ নিয়ে কেউ কথা বললেই তাকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১৫ দিন আগে বেতনের কথা বলায় একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেন। আরেকজনকে বের করে দেওয়ার পর তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ কারণে ভয়ে কেউ কথা বলছেন না।
শ্রমিকদের অধিকারের বিষয় নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এই সংগঠনের বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁও আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মইন ইত্তেফাককে বলেন, কারখানার মালিকপক্ষ ক্ষমতাধর হওয়ায় তারা আইন মানার তোয়াক্কা করেন না। এসব সমস্যা নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তারাও এ কারখানা মালিকের কাছে অসহায়।
কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর নাজমুল নামে একজন শ্রমিককে জোর করে চাকরিচ্যুত করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
জানা গেছে, মালিবাগে ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। প্রতিষ্ঠানটি এক সময় আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্সের অধীনে ছিল। বর্তমানে অ্যাকর্ডের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ চলছে।
