‘দেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ নারী গর্ভপাত করান’

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫১

দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতি বছর ২১ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়। আর অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুর জন্ম ঠেকাতে প্রায় ৯ লাখ নারী গর্ভপাত করান। এদের কাছে জন্মবিরতিকরণ উপাদানগুলো না পৌঁছানোর কারণে এটি ঘটে। মূলত এ নারীরা গর্ভবতী হতে চায়নি। শুধু জন্মবিরতিকরণ ব্যবস্থার অভাবে তারা মা হয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। পরিবার পরিকল্পনায় মাঠ পর্যায়ের গবেষণামূলক কাজের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণে পিল বাদ দিয়ে শুধু কনডমে উত্সাহিত করছে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা বাঞ্ছনীয়।

সভার প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ                 ইউসুফ হারুন বলেন, প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিরা যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে সে এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আমূল পরিবর্তন হবে। সংসদ সদস্যসহ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সভায় বিলম্বিত গর্ভধারণ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিবাহিত প্রায় ৪২১ দম্পতির ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পাইলট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ঐ দম্পতিদের বিয়ের সময় সরকারের পক্ষ থেকে একটি উপহার বাক্স দেওয়া হয়, যাতে ছিল একটি ঘড়ি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের যাবতীয় নিয়মাবলি এবং কিছু উপকরণ।

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ৫৫ শতাংশ মানুষ বিয়ের প্রথম রাতে এ বাক্স থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণকারী উপকরণ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ নারী গর্ভধারণ করেছেন। বিয়ের প্রথম বছর গর্ভবতী হয়েছেন প্রায় ৩১ শতাংশ। এ উপহার দেশের নবদম্পতিরা উত্সাহের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী এ কে এম মহিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএর স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান অমর বালান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগের পরিচালক যুগ্মসচিব ডা. মো. সারোয়ার বারি প্রমুখ।