ওকালতি করতে পারবেন না হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলে। কোনো ধরনের পরীক্ষা না দিয়েই মো. জুম্মান সিদ্দিকী ওকালতি করার অনুমতি পেয়েছিলেন বার কাউন্সিল থেকে। পরে ঐ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা হয় রিট। ঐ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রদান-সংক্রান্ত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেছে।
রুলে ঐ গেজেট কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বার কাউন্সিলের সচিবসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। এর আগে এই রিট শুনানির জন্য হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চে পেশ করা হলেও শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। শুনানিকালে বিষয়টি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই বেঞ্চের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে রিট পিটিশনটি আপনারা (বিচারপতিদ্বয়) শুনছেন। এর আগে কয়েকটি বেঞ্চ রিটটি শুনতে চায়নি, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, কোনো ধরনের পরীক্ষা না দিয়েই আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি দেওয়ার বিধান বৈষম্যমূলক। এ ধরনের বিধান আইনে থাকা উচিত নয়।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় কয়েকবার অংশ নিয়েও কৃতকার্য হতে পারেননি মো. জুম্মান সিদ্দিকী। কিন্তু এরপরও গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি দেয় বার কাউন্সিল। ৩১ অক্টোবর এসংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়। এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও ইশরাত হাসান। রিটে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডারের ২১ (১) (খ) ও ৩০ (৩) ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়। শুনানিতে রিটের পক্ষে অনীক আর হক ও জুম্মানের পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম শুনানি করেন।
